ভারতের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) ও ইনফোসিসের ব্যবসায় এআই একদিকে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে প্রচলিত সেবার আয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলে এই দ্বিমুখী প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি খাতে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হলেও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কারণে প্রচলিত সেবার আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠান দুটি পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং সেগুলোর সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ থেকে নতুন ব্যবসা পাচ্ছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে এআই যুক্ত করার চাহিদা বাড়ায় টিসিএস ও ইনফোসিসের মতো বড় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছে।
তবে এআইয়ের কারণে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ায় প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি সেবার ব্যবসায় চাপ তৈরি হচ্ছে। আগে যেসব কাজ সম্পন্ন করতে বেশি সময় ও কর্মী প্রয়োজন হতো, এআইয়ের সহায়তায় সেগুলোর কিছু অংশ এখন কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট কাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আগের মতো আয় করার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
এআই থেকে আয় বাড়ছে
২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে টিসিএসের এআই-সংশ্লিষ্ট বার্ষিকীকৃত আয় ১৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে ইনফোসিসের এআই থেকে আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, এআইভিত্তিক সেবা ভারতের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু প্রচলিত সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং গ্রাহকদের বিদ্যমান প্রযুক্তিব্যবস্থায় এআই যুক্ত করা, কাজের প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।
তবে এআই থেকে আয় বাড়লেই সামগ্রিক ব্যবসার প্রবৃদ্ধি সমান হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন এআইভিত্তিক সেবা থেকে অর্জিত আয়ের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যবসায় সম্ভাব্য আয়হানির বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
সামনে নতুন সুযোগ, সঙ্গে অনিশ্চয়তা
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সফটওয়্যার উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়ার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এই ব্যবসায়িক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে।
একদিকে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় নতুন ধরনের প্রযুক্তিসেবার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে একই প্রযুক্তি প্রচলিত কাজের খরচ কমিয়ে দেওয়ায় পুরোনো ব্যবসার আয় ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে টিসিএস ও ইনফোসিসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, নতুন এআইভিত্তিক ব্যবসা থেকে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত সেবার ব্যবসায় সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দেওয়া।
সামনের দিনগুলোতে এআই থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি কতটা স্থায়ী হয় এবং প্রচলিত সেবার আয়ের ওপর এর চাপ কতটা বাড়ে, তার ওপর ভারতের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির চিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে।












