তুলার সরবরাহ বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুল্কমুক্ত আমদানির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়েছে ভারত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশ থেকে শুল্ক ছাড়াই তুলা আমদানি করতে পারবেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। এতে বস্ত্রকলগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে এবং বাজারে তুলার দাম কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে তুলা রপ্তানিও বাড়তে পারে।
ভারত সরকারের ৩১ অক্টোবরের ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা উৎপাদক দেশ ভারত। উৎপাদনে চীনের পরেই দেশটির অবস্থান। তবে নিজস্ব উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও মৌসুমি সরবরাহের ঘাটতি এবং দামের চাপ সামাল দিতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দেশটির বস্ত্রশিল্পকে।
আগের শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছিল আজ
এর আগে ১ জুন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তুলা আমদানিতে ১১ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল ভারত সরকার। মৌসুমের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সময়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোই ছিল ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। কিন্তু অক্টোবরের শেষেও তুলার দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি। ফলে শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল দেশটির বস্ত্রকলগুলো।
সাধারণত অক্টোবর মাসে নতুন মৌসুমের তুলা বাজারে আসতে শুরু করলে অভ্যন্তরীণ দাম কমে যায়। কিন্তু চলতি বছর সেই প্রবণতা দেখা যায়নি। নতুন ফসলের উৎপাদন কম হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে দাম এখনো তুলনামূলকভাবে চড়া রয়েছে।
বর্ষার অনিয়মিত বৃষ্টিতে উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ
এ বছর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম থাকায় তুলার উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির এই অনিয়মের প্রভাব ফসলের উৎপাদনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এ কারণে নতুন মৌসুমের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং তুলার দামও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বস্ত্রকলগুলো সরকারের কাছে দাবি জানায়। শুল্ক প্রত্যাহার থাকলে বিদেশ থেকে তুলা আনার খরচ কমবে। এতে কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানিতে সুযোগ
শুল্কমুক্ত আমদানির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার তুলা রপ্তানিকারকেরা সুবিধা পেতে পারেন। ভারতীয় আমদানিকারকদের জন্য এসব দেশ থেকে তুলা কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে। ফলে আগামী দুই মাসে ওই দেশগুলো থেকে ভারতের তুলা আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স চলতি সপ্তাহেই জানিয়েছিল, ভারত শুল্কমুক্ত আমদানির মেয়াদ বাড়াতে পারে। ৩১ অক্টোবর সরকারের ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই সম্ভাবনাই বাস্তব হয়েছে।
ভারতের সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। নতুন মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত শুল্ক ছাড় বহাল থাকায় দেশটির বস্ত্রশিল্প কাঁচামাল সংগ্রহে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
ভারতে তুলা আমদানির শুল্ক ছাড় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১১ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে বস্ত্রকলগুলোর কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যয় কমতে পারে, বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি।












