আরব উপসাগরে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ ‘আল মায়েদা’তে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাহাজটি অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং সমুদ্রের পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান।
কাতারের দাবি, জ্বালানিবাহী জাহাজে এ ধরনের হামলা সামুদ্রিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাত, অক্ষত নাবিকেরা
কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড—নাকিলাত—জানিয়েছে, তাদের মালিকানাধীন ‘আল মায়েদা’ ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় আরব উপসাগর দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। রোববার (১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানায়।
নাকিলাতের বিবৃতি অনুযায়ী, জাহাজে থাকা কোনো নাবিক আহত হননি। ঘটনার কারণে সমুদ্রের পরিবেশেও কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজটি নিরাপদ রয়েছে এবং চলাচলের উপযোগী আছে। তবে আঘাতের ফলে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কাতারের কড়া নিন্দা
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এ ধরনের হামলা সামুদ্রিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিজেদের সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষা এবং জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার কাতার সংরক্ষণ করে।
মন্ত্রণালয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবেশ ও পানির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার সম্ভাব্য পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেছে। এ ধরনের ঘটনায় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের পানির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
হামলার পরিস্থিতি ও এর পেছনে কারা রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে কাতার।












