নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, আর এর মধ্যে এক-দুটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকের পর প্রকাশিত নভেম্বরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সাগর পুরো মাস শান্ত নাও থাকতে পারে। উপকূলের মানুষ, জেলে ও নৌযানের চালকদের তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।
অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পুরো মাসে দেশের কোথাও বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি স্বাভাবিকের কম হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমবে, অর্থাৎ শীতের আমেজ একটু একটু করে বাড়বে। এ ছাড়া কিছু এলাকায় সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার আশঙ্কাও আছে। শীতের পোশাক বের করে রাখার সময় তাই প্রায় এসে গেছে। অধিদপ্তরের বক্তব্য, গত অক্টোবরের জন্য দেওয়া তাদের পূর্বাভাস বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে গিয়েছিল।
লঘুচাপ শব্দটি অনেকের কাছেই কঠিন শোনায়। সহজ করে বললে, সাগরের কোনো একটি এলাকায় বাতাসের চাপ যখন আশপাশের চেয়ে কমে যায়, তখন তাকে লঘুচাপ বলা হয়। এই চাপ আরও কমলে এবং বাতাসের গতি বাড়লে সেটি নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও শেষে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে প্রতিটি লঘুচাপ ঝড় হয়ে ওঠে না। অনেকগুলোই সাগরে দুর্বল হয়ে মিলিয়ে যায়। নভেম্বরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাই কোনো নিশ্চিত ঝড়ের খবর নয়, এটি একটি আগাম সতর্কবার্তা।
এই বার্তা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে উপকূলীয় জেলার মানুষ ও মাছ ধরার ট্রলারের মাঝিদের। সাগরে নামার আগে আবহাওয়ার সংকেত দেখে নেওয়া এবং সরকারি হালনাগাদ খবরের ওপর নজর রাখা জরুরি। কৃষকদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পাকা ধান কাটা, মাঠে ফসল তোলা কিংবা শীতের সবজি ও রবিশস্যের বীজ বোনার সময় হঠাৎ বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া ক্ষতি করতে পারে। বৃষ্টি কম হওয়ার কথা বলা হলেও ঝড়ের প্রভাবে কয়েক দিনের জন্য আকাশ মেঘলা থাকা বা হালকা বৃষ্টি হওয়া অসম্ভব নয়। নভেম্বরে আবহাওয়ার পূর্বাভাস মাথায় রেখে সেই অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করা ভালো।
কুয়াশা পড়তে শুরু করলে সড়ক, নদীপথ ও আকাশপথে চলাচলে সাবধান থাকতে হয়। ভোরে লঞ্চ, বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর সময় দৃষ্টিসীমা কমে যেতে পারে। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ক্ষেত্রে সকালের ঠান্ডা আর দিনের গরমের এই ওঠানামা সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিবারে একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার। স্কুলগামী শিশু আর কর্মজীবী মানুষের জন্য সকালে হালকা গরম কাপড় সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যাঁরা দূরের পথে বের হবেন, তাঁরা যাত্রার আগে আবহাওয়ার খবর দেখে নিলে অনেক ভোগান্তি এড়ানো যাবে। সব মিলিয়ে নভেম্বর মাস শীতের শুরু হলেও সাগরের দিকে নজর রাখার মাস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিদিনের বুলেটিন আর সতর্কসংকেতই এ সময়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ দেখানোর উপায়, আর নতুন কোনো লঘুচাপ তৈরি হলে আমরা সে খবর যথাসময়ে জানাব।












