বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে চোখের চিকিৎসা ও সেবা বাড়াতে ১৩ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের এই পরিকল্পনায় প্রায় ২ কোটি মানুষকে প্রাথমিক চক্ষুসেবা দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে থাকছে ১০ লাখ বিনা মূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার এবং ১ কোটি জোড়া চশমা বিতরণ। বৈশ্বিক চক্ষুস্বাস্থ্য শীর্ষ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি জানানো হয়। ছানি হলো চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত বয়সের সঙ্গে বাড়ে এবং অস্ত্রোপচারে সারে। তাই বিনা মূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।
সম্মেলনের আয়োজক অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা সরকার। সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ, গায়ানা, আয়ারল্যান্ড ও নাইজেরিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতায় সম্মেলনটি ডাকে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক নাগরিকের দৃষ্টি পরীক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। এ কাজে দেশি ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
আয়োজক সংস্থাটির ভ্যালু অব ভিশন প্রতিবেদনের হিসাবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চক্ষুস্বাস্থ্যে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলে প্রায় ২৩১ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সুফল মিলতে পারে। অর্থাৎ প্রতি এক ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল প্রায় ১৮ ডলার। দৃষ্টি ঠিক থাকলে মানুষ কাজ করতে পারেন, শিশুরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, আর বয়স্করা অন্যের ওপর কম নির্ভর করেন। তাই এটি শুধু স্বাস্থ্যের নয়, উৎপাদনশীলতারও প্রশ্ন। বিশেষ করে গ্রামের কৃষক, রিকশাচালক ও কারখানার শ্রমিকের জন্য ঝাপসা দৃষ্টির অর্থ সরাসরি আয় কমে যাওয়া। চশমা বা ছানির অস্ত্রোপচারের মতো তুলনামূলক সহজ সেবা তাই জীবনের মান অনেকটাই বদলে দিতে পারে।
বেসরকারি সংস্থা ভিশনস্প্রিং ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৭৫ লাখ মানুষকে চশমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। সংস্থার বাংলাদেশ শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন বলেন, চশমা বিলাসিতা নয়, জীবিকা ও সুস্থতা উন্নত করার হাতিয়ার। তিনি জানান, কারখানা, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও চালক সমিতির সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়িয়ে পোশাক ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো হবে। কাছের জিনিস দেখার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের পড়ার চশমা দিলে তাঁদের মাসিক আয় গড়ে ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, এমন একটি পরীক্ষার ফলও সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
দেশে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩ দশমিক ২ শতাংশের গ্লুকোমা রয়েছে বলে একটি জাতীয় সমীক্ষায় উঠে এসেছে। গ্লুকোমা ও ছানির মতো রোগে দেরিতে চিকিৎসা নিলে দৃষ্টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। তাই গ্রাম ও শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সহজ, কম খরচের চোখের পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার সবচেয়ে জরুরি। ১০ লাখ বিনা মূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে লাখো পরিবার উপকৃত হবে। কোন হাসপাতালে কবে থেকে এই সেবা মিলবে, তা পরিষ্কার হলে পাঠকদের জানানো হবে। এখন দেখার বিষয়, পাঁচ বছরের এই পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কত দ্রুত পৌঁছায়।












