চীনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্টেলাস ফার্মার এক কর্মী আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। মুক্তির পর তাঁকে জাপানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জাপানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
শনিবার রাতে কিয়োদো নিউজ এজেন্সি ও ইয়োমিউরি পত্রিকাসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে।
২০২৩ সালে আটক, ২০২৫ সালে কারাদণ্ড
জাপানি ওই কর্মীকে ২০২৩ সালের মার্চে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে আটক করে চীনা কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁকে তিন বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর জাপানের উপপ্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে তখন তিনি আটক ব্যক্তির নাম কিংবা তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এবার মুক্তির খবর প্রকাশিত হলেও অ্যাস্টেলাস ফার্মা, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং টোকিওতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
জাপান-চীন সম্পর্কে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিরোধ
জাপানি কর্মীর আটক ও কারাদণ্ডের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের বিরোধ আরও গভীর হয়েছে।
গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, চীন যদি স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে পরিস্থিতি জাপানের সামরিক প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
তাঁর এই বক্তব্যের পর জাপান-চীন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। চীন নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জাপানে তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
পাশাপাশি জাপানে বিরল মৃত্তিকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রপ্তানিও সীমিত করে চীন। গাড়ি থেকে শুরু করে অস্ত্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে এসব খনিজের ব্যবহার রয়েছে।
জাপানি কর্মীর সম্ভাব্য মুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও তা বৃহত্তর কূটনৈতিক টানাপোড়েন কতটা কমাতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।












