ভারতের ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কোচিতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ফেরার পথে বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিজ্ঞতার কথা জানান।
শনিবার কোচিতে সিজেপির আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন দীপকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিলম্বিত ফ্লাইটে আটকে বিমানবন্দরে
জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (শরদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের জবাবে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন দীপকে।
দীপাবলিতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আনন্দ নিয়ে গাওয়ান্ডে লিখেছিলেন, উৎসবের পোশাকে মানুষের উপস্থিতি এবং সবার হাসিমুখ বিমানবন্দরের পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলে।
জবাবে দীপকে জানান, কোচির প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সংযোগকারী ফ্লাইটের বিলম্বের কারণে তাঁকে বিমানবন্দরে রাত কাটাতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দীপাবলির দিন বাড়ি ফিরতে না পারলে মা বকবেন—এই চিন্তায় তিনি দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষায় ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে।
রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম পাতায় বিমানের ভেতরের ছবি ও অটোরিকশায় যাত্রার ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে বিলম্বিত ও সংযোগকারী ফ্লাইটের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করেন। দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, সবার উৎসব যেন ঝামেলামুক্ত হয়।
কোচিতে ‘জন্তর মন্তর’ কর্মসূচি
শনিবার কোচির রাজেন্দ্র ময়দানে সিজেপির ‘কোচিতে জন্তর মন্তর’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় দীপকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।
এর আগে দিল্লির কনট প্লেসের কাছে তিরঙ্গা মিছিল বের করার চেষ্টা করায় তাঁকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। একই সময়ে সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসও জন্তর মন্তরে প্রবেশসংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশি পদক্ষেপের পরও যেখানেই যাবেন, ভারতের জাতীয় পতাকা সঙ্গে রাখবেন বলে জানিয়েছিলেন দীপকে।
এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনে বিতর্ক
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগ সামনে আসার পর।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো বা সুপারিশ ছাড়াই নেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ও সিজেপি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করা হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মতিতে নেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন অভিযোগও কমিশন প্রত্যাখ্যান করেছে।












