মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা আনুগেরাহ জুয়ারা লাগুর ৪০তম আসরে প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত পর্বে উঠে ইতিহাস গড়েছে হিপহপ দল কেওআই। ‘তিউইকার্মা’ গানের নাটকীয় ও প্রাণবন্ত পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বিচারকদের মুগ্ধ করে জিতে নিয়েছে আসরের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
শনিবার রাতে বুকিত জলালের ইউনিফি অ্যারেনায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে কেওআই জিতে নেয় গ্র্যান্ড ট্রফি এবং এক লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত অর্থপুরস্কার।
মঞ্চ মাতিয়ে সেরার স্বীকৃতি
‘তিউইকার্মা’ গানটির সুর করেছেন জাই হামজা ও হেমো গ্লোবিন। গানের কথা লিখেছেন আচোই ফ্লোর ৮৮, খাজা রাফ্লেক্স, তুয়ান নিকি, মিয়া নানা ও সাপিক সাম। চমকপ্রদ মঞ্চসজ্জা, অভিনয়ধর্মী পরিবেশনা ও তীব্র আবেগের সমন্বয়ে গানটি কেওআইকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।
ফল ঘোষণার পর দলের সদস্যদের অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় পাশে থাকা ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তাদের চোখে জল চলে আসে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যারা
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে আইশা রেত্নোর ‘তাক আদিল’। রাদির সঙ্গে যৌথভাবে গানটির সুর করা আইশা পেয়েছেন ট্রফি ও ৫০ হাজার রিঙ্গিত।
তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন সাবাহর গায়ক ও গীতিকার রেইনাল্ড গুনতাবিদ। ‘লুমাঙ্গাদ ওকু দিকা’ গানটির জন্য তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার রিঙ্গিত।
এ ছাড়া ‘তানগিসান সেওরাং পেনদোসা’ গানের জন্য মার্শা মিলান জিতেছেন সেরা কণ্ঠের পুরস্কার এবং পেয়েছেন ১২ হাজার রিঙ্গিত।
সেরা পরিবেশনায় আইনা আবদুল
আগ্নেয়গিরিকে কেন্দ্র করে তৈরি দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ পরিবেশনার জন্য সেরা পরিবেশনার পুরস্কার পেয়েছেন আইনা আবদুল। এ পুরস্কারের সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার রিঙ্গিত।
আইনা আরও পেয়েছেন শোপির পছন্দের শিল্পী প্রতীক পুরস্কার ও ৫০ হাজার রিঙ্গিত। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে ২০২৬ সালের ইউরোভিশন এশিয়ায় অংশ নেওয়ার সম্মানও অর্জন করেছেন তিনি।
এবারের আসরের মূল ভাবনা ছিল ঐতিহ্যকে ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়া। বিচারকমণ্ডলীর নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারক দাতুক আচিস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এসএম মুজাফফর, এফরি, এজি কোকো, সিতি হাজর, আদ সামাদ, এলওয়াই, প্যাট ইব্রাহিম ও হেলেন ইয়াপ।
কেওআইয়ের এই জয় শুধু একটি পুরস্কার অর্জন নয়; প্রথমবারের চূড়ান্ত পর্বে উঠেই নিজেদের সংগীতশক্তির বড় প্রমাণ দিয়েছে দলটি।
মালয়েশিয়ার সংগীতাঙ্গনে নতুন প্রজন্মের হিপহপ শিল্পীদের সম্ভাবনাকেও এই সাফল্য আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।












