বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কাতারের এলএনজি চালান নভেম্বরেও আসছে না। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, চালান বাতিলের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই নোটিশ পেয়েছে পাকিস্তান ও অন্তত একটি ভারতীয় ক্রেতা। ইতালির প্রতিষ্ঠান এডিসনের সরবরাহ বন্ধ থাকবে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত।
হরমুজ খোলার আলোচনায় অগ্রগতি নেই
হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনা এখনো আটকে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রণালি খোলার জন্য শর্ত দিয়েছে ইরান, যদিও আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান। গত বছর বিশ্বের মোট এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই গিয়েছিল।
সংকট চলছে এপ্রিল থেকে
- এপ্রিল থেকে কাতারএনার্জি ‘ফোর্স মাজেউর’ ঘোষণা করে চালান বাতিল করছে, প্রায় প্রতি মাসে বাড়ছে মেয়াদ।
- মার্চে রাস লাফানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানির সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ইউনিট মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কাতারএনার্জি।
- জুলাইয়ে হরমুজ পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হয় কাতারি ট্যাংকার ‘আল রেকাইয়াত’।
বাংলাদেশের ওপর চাপ
কাতার থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর অন্তত ৪০টি এলএনজি চালান পায়। চলতি অর্থবছরে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫৬টি চালান আসার কথা ছিল। ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে কেনা বাড়িয়েছে। কিন্তু এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম এখন ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ, ফলে প্রতিটি বিকল্প চালানে খরচ অনেক বেশি। গ্যাসের ঘাটতিতে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
ডিসেম্বরের দিকে নজর
হরমুজ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাতারের এলএনজি সরবরাহ ফেরার নিশ্চয়তা নেই। ডিসেম্বরের চালান নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে আগামী মাসের নোটিশে।












