বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছিল। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর তৃতীয় প্রান্তিকে তা আরও কমে যায়। তবে শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ফলে পুরো অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে শিল্প ও সেবা খাতের তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের প্রবৃদ্ধির ধারায় ওঠানামা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রথম নয় মাসে প্রবৃদ্ধির ওঠানামা
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে আরও কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়ায়। আগের অর্থবছরের একই তিন প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯১, ৩ দশমিক ৫৩ ও ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬০ শতাংশে ওঠায় পুরো বছরের হিসাব কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।
শিল্প খাতে শেষ প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে শেষ প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ।
তবে পুরো অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ওঠানামাপূর্ণ। প্রথম প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা নেমে আসে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে। তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাত শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়। আগের অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৮০, ৫ দশমিক ৭৮ ও ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে
চতুর্থ প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫১, ৪ দশমিক ৪৫ ও ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪৯, ৩ দশমিক ৪৮ ও ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
কৃষিতে প্রবৃদ্ধির গতি কম
শিল্প ও সেবা খাতের তুলনায় কৃষি খাতে শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ১১, ৩ দশমিক ৬৮ ও ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল যথাক্রমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১২, ১ দশমিক ৯০ ও ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।
শেষ প্রান্তিকে গতি বাড়লেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাব বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতির গতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে। শিল্প খাতে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
ফলে অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারার পর শেষ প্রান্তিকে কিছুটা গতি ফিরলেও পুরো অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশে। এই হিসাব এখনো প্রাথমিক; পরবর্তী সময়ে সংশোধিত হিসাবে এতে পরিবর্তন আসতে পারে।












