রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণ আবার চালু হয়েছে। শুক্রবার থেকে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বৃহস্পতিবার রাতে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানায়। একই দিন স্থানীয় দুটি সংগঠন সাজেকের সড়ক অবরোধ ছয় দিনের জন্য স্থগিত করেছে। দুর্গাপূজা ঘিরে এই স্থগিতাদেশ চলবে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে পূজার ছুটিতে যাঁরা পাহাড়ে বেড়াতে যেতে চান, তাঁদের জন্য সাজেকে পর্যটক ভ্রমণের পথ আবার খুলে গেল।
এর আগে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেকে পর্যটক যাওয়া বন্ধ করেছিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। তখন অনিবার্য পরিস্থিতি ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছিল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। সাজেকে ঘোষিত অবরোধ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাজেক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায়। মেঘ আর পাহাড়ের দৃশ্যের জন্য এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ছুটির দিনগুলোতে এখানে হাজারো মানুষের ভিড় হয়। সাজেকে যেতে সাধারণত খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে পাহাড়ি সড়ক ধরতে হয়। এই সড়কে চলাচল বন্ধ থাকলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা দুই পক্ষই বিপাকে পড়েন।
অবরোধ ডেকেছিল সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা যৌথ বিবৃতিতে স্থগিতের ঘোষণা দেয়। বিবৃতি দেন কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। সাজেকের মাচালং বাজার দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির অনুরোধে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নেন। সংগঠন দুটি বলেছে, পূজা যেন যথাযথ মর্যাদায় পালন করা যায়, সে জন্যই এই বিরতি। তাদের দাবি, অবরোধ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবে ডাকা হয়নি। কোনো জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মের বিরুদ্ধেও এই কর্মসূচি নয়। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং জানমাল রক্ষার দাবিতেই অবরোধ ডাকা হয়েছিল বলে তারা জানিয়েছে। মাচালং বাজারে এবারও দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে।
দুর্গাপূজার ছুটিতে দেশের ভেতরে বেড়ানোর চাপ বাড়ে। কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটের পাশাপাশি সাজেকও পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় থাকে। স্থানীয় কটেজ মালিক, গাড়িচালক ও ছোট ব্যবসায়ীদের আয়ের বড় অংশ আসে পর্যটন থেকে। তাই পূজার আগে সাজেকে পর্যটক ভ্রমণ চালু হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও স্বস্তির খবর। পাহাড়ের বাসিন্দাদের কাছেও পরিস্থিতি শান্ত থাকা জরুরি। অবরোধ আর নিষেধাজ্ঞা দুটোই তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। পূজার সময় অনেকে পরিবার নিয়ে কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে বের হন। শহরের যানজট আর ব্যস্ততা থেকে দূরে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ অনেককে টানে। সাজেকের রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাহাড় পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।
তবে অবরোধের স্থগিতাদেশ আপাতত ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাজেকে পর্যটক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির স্থানীয় প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো। রাতে পাহাড়ি পথে চলাচল এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলা জরুরি। পূজার ভিড়ে গাড়ি ও কটেজের চাহিদা বাড়তে পারে। তাই আগেভাগে থাকার জায়গা ও যাতায়াত নিশ্চিত করে রওনা হওয়াই নিরাপদ।












