দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নিয়ম বদলাচ্ছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে ডিজিটাল লটারিতে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে ফিরছে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ১৩ অক্টোবর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা ২০২৭ জারি করেছে। গত কয়েক বছর সরকারি স্কুলে ভর্তি হতো মূলত লটারিতে। এবার ওপরের শ্রেণিগুলোতে মেধা যাচাইয়ে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। নতুন নীতিমালা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে। শিক্ষাবর্ষ চলবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রথম শ্রেণির লটারি কেন্দ্রীয়ভাবে চালাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি। একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি স্কুল পছন্দের তালিকায় রাখতে পারবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিশুর বয়স হতে হবে ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বয়সে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ছাড় পাবে। আবেদন থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া চলবে অনলাইনে। প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী রাখা যাবে।
দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। সময় এক ঘণ্টা। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের, সময় দুই ঘণ্টা। সেখানে বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ করে এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। প্রশ্ন হবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বা এনসিটিবির বই থেকে। অর্থাৎ যে শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়, তার আগের পাঠ ভালোভাবে জানা থাকলেই প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী বাছাই হবে।
ঢাকা মহানগরের সরকারি বিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে নির্ধারিত ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য। বাকি ৬০ শতাংশ আসনে যেকোনো এলাকার শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে। ষষ্ঠ শ্রেণির ১০ শতাংশ আসন থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা থাকছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, যমজদের জন্য ২ শতাংশ এবং ভাইবোনদের জন্য ৩ শতাংশ আসন রাখা হয়েছে। বদলি হওয়া সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য প্রতিটি শাখায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মীদের সন্তানদের জন্যও আলাদা কোটা আছে।
অভিভাবকদের জন্য এখনই প্রস্তুতি শুরুর সময়। আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। তাই মাউশির ওয়েবসাইট ও পছন্দের স্কুলের নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত চোখ রাখা দরকার। জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখা ভালো। বড় শহরগুলোতে প্রতিবছর সরকারি স্কুলে ভর্তি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। নতুন নিয়মে সরকারি স্কুলে ভর্তি কতটা স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে লটারির ফল নিয়ে অযথা চাপ না নেওয়াই ভালো। পাঁচটি স্কুল বাছাইয়ের সময় বাসা থেকে দূরত্ব ও যাতায়াতের সুবিধা মাথায় রাখা দরকার। ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মূল বিষয়গুলো নিয়মিত অনুশীলনই সবচেয়ে কাজের প্রস্তুতি।












