রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নতুন শুল্ক কার্যকর করার আগে সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নিতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ে বৈশ্বিক ও মার্কিন অর্থনীতিতে পদক্ষেপগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা জানান। উজবেকিস্তান সফরে রওনা হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
গত মাসে ট্রাম্প গ্রাহাম অ্যাক্টে সই করেন। আইনটিতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলোর পণ্যে শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা আছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে আইনটি করা হয়। ব্যবস্থাগুলো আগামী সপ্তাহে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার নির্বাহী আদেশে সই করে তা স্থগিত করেন ট্রাম্প। আদেশে স্থগিতের মেয়াদ বলা হয়নি। রুবিও জানান, পর্যালোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেছে নেওয়া হয়েছে। শনিবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
রুবিও এ প্রসঙ্গে ভারতের কথা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারত জ্বালানির উৎস বাড়ালেও এখনো রুশ তেলের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। এদিকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও উৎসাহ পাবেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘ হবে। আইনটির পক্ষে প্রচার চালানো প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিন গ্রাহামও দ্বিমত জানিয়েছেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার এই রিপাবলিকান রাজনীতিক বলেছেন, তিনি মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখার পক্ষে। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে বিষয়টি তুলবেন তিনি।
পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের একটি সমঝোতাকে সমর্থন করেছেন রুবিও। ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে দাম বেড়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতায় রাশিয়া প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল পাঠাবে। নভেম্বর ও পরেও চালান আসবে। রুবিওর মতে, এই ডিজেল এমনিতেও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হতো, প্রশ্ন শুধু যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম নিয়ে দেশে রাজনৈতিক চাপে আছেন ট্রাম্প।
বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য আছে। দেশের জ্বালানি তেলের বেশির ভাগই আমদানি করা হয়। বিশ্ববাজারে তেল ও ডিজেলের দাম ওঠানামা করলে চাপ পড়ে ভর্তুকি, পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দামে। রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ৬০ দিন পর ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকে ঢাকারও নজর রাখার কারণ আছে।












