ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিক ও ফ্রান্সের এক মেয়র। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো এ তথ্য জানান। একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে ওয়াশিংটন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ধরনের হামলা বন্ধে ইসরায়েলকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রেভোর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ছিলেন ফিলিস্তিনে বেলজিয়ামের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। বেলজিয়ামের একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফ্রান্সের আলোয়েন-আয়মেরি শহরের মেয়র বার্নার বুদু জানান, খ্রিষ্টান অধ্যুষিত তাইবেহ গ্রামের কাছে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহে অংশ নিয়েছিলেন। তখন মুখোশ পরা কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাচেই ভেইভিয়র জানান, কূটনীতিকদের গাড়িবহরে হামলা হলেও পোলিশ কূটনীতিকেরা অক্ষত আছেন।
এর আগের দিন শুক্রবার জলপাই সংগ্রহরত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় মুখোশধারী একদল বসতি স্থাপনকারী। সেই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মার্কিন আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। হামলার ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রুবিও বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তর ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস থেকে রোববারের মধ্যে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তিনি। ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইয়েশ দিন জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের অন্তত ১৭০টি হামলা হয়েছে। সময়টি বার্ষিক জলপাই সংগ্রহ মৌসুমের শুরু।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার হামলাকারীদের দাঙ্গাকারী বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, কূটনীতিকেরা আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করলে নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হতো। ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ বলেছেন, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের সহিংসতার ছোট একটি উদাহরণ। প্রেভো দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন। পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমির ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে বেলজিয়াম। দায়ীদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার দাবিও জোরালো করবে দেশটি। ইসরায়েলি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। বাংলাদেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বাড়লে বাংলাদেশেও জনমনে উদ্বেগ বাড়ে। এবার পশ্চিমা কূটনীতিকেরাও আক্রান্ত হওয়ায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কতটা কঠোর হয়, সেদিকে নজর থাকবে।












