সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় একটি সামরিক গোয়েন্দা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
রোববার এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল এএইচ-৬আই মডেলের। এটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
নাজরান সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নাজরান অঞ্চলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতও নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তবে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে সৌদি জোটের বক্তব্যের সঙ্গে হুতিদের দাবির পার্থক্য রয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, নাজরানের কাছে একটি সৌদি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী। তাঁর দাবি, হেলিকপ্টারটি সীমান্তে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে শত্রুতামূলক তৎপরতা চালাচ্ছিল।
রোববার এই দাবির জবাবে আল-মালিকি কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা দাবি করছেন, হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছেন। কিন্তু এটি শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরবে।’
সৌদি আরবে হামলার ঝুঁকি বাড়ছে
ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে। দেশটির তেল স্থাপনা, ট্যাংকার এবং পরিবহন ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা নতুন করে ধেয়ে আসা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করেছে। একই সময়ে দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র মিসর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, সৌদি নেতৃত্ব অনুরোধ জানালে দেশটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত মিসর।
সিসি আরও বলেন, মিসর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তবে সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়লে কায়রোর নীরব থাকা গ্রহণযোগ্য হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন মাত্রা
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নাজরানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা এবং সেটিকে ঘিরে সৌদি জোট ও হুতিদের পরস্পরবিরোধী দাবি সীমান্ত পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও স্পষ্ট করেছে। তবে দুর্ঘটনাটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে, নাকি হুতিদের দাবি অনুযায়ী কোনো হামলার ঘটনা এর পেছনে ছিল—তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো স্পষ্ট অমিল রয়েছে।












