খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার খাগড়াছড়ি শহরে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
শুক্রবার শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মিছিল শেষে খাগড়াছড়ি পৌরসভার শাপলা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হিল ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আয়ুশ চাকমা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন পরিবহন খাতের নেতারা জসিম উদ্দিন, উজ্জ্বল, মোহাম্মদ আসাদ মাসুম ও ওমর ফারুক কুসুম।
পর্যটন ব্যবসা ও পরিবহনে আর্থিক সংকট
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকেরা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ বা সীমিত থাকায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
বক্তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, পর্যটনকেন্দ্রগুলো চালু রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রয়োজন বলে সমাবেশে দাবি জানানো হয়।
চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিও
সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, পর্যটন ও পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভকারীদের এই কর্মসূচিতে পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ এবং সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি সামনে এসেছে। তাঁদের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খাগড়াছড়িতে সাজেক ভ্যালির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।












