বাহামাসে সাগরে স্নরকেলিং করতে গিয়ে প্রবল স্রোতে ভেসে যায় দুই শিশু। তাদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন হারিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নারী। শিশু দুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মাকে বাঁচানো যায়নি। বাহামাসে ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যুর এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
রয়্যাল বাহামাস পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিমিনি দ্বীপে ওই নারীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে দ্বীপটির দক্ষিণ প্রান্তের কাছে স্নরকেলিং করছিলেন। এ সময় প্রবল সামুদ্রিক স্রোতে তাঁর দুই ছেলে ভেসে যায়। সন্তানদের উদ্ধার করতে গিয়ে ওই নারীও স্রোতের টানে ভেসে যান। পরে শিশু দুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়।
ফেরিঘাটের কাছে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু পর অ্যালিস টাউন পুলিশ স্টেশনে খবর আসে, উত্তর বিমিনির ফেরিঘাটে এক নারী অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানতে পারেন, ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করেন।
ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই নারী ও তাঁর দুই ছেলে স্রোতে আটকা পড়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নটিংহ্যামশায়ারের বাসিন্দা বলে ধারণা
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত নারী যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যামশায়ারের স্ট্যাপলফোর্ড এলাকার বাসিন্দা। বিমিনি দ্বীপ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। তবে সাগরে স্নরকেলিং বা অন্যান্য জলক্রীড়ার সময় শক্তিশালী সামুদ্রিক স্রোত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। পানির ওপর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও নিচের স্রোত সাঁতারুদের দ্রুত উপকূল থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারে।
দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও মাকে হারানোর এই ঘটনা পরিবারটির জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাহামাসে ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।












