গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।
সোমবার, ২ নভেম্বর সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে বিজিবি সদস্যরা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব পালন করছেন।
শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ মোকাবিলা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ
বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ বক্স, কারখানার গুদাম ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে কারখানায় ছুটি
শ্রম অসন্তোষ ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে গাজীপুরের বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব।
মাঠপর্যায়ে বিজিবি মোতায়েন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।












