সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো, শিল্পকারখানাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মধ্যবিত্তের সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েই দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকানরা পেতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো চাকরি, সবচেয়ে বড় বেতন এবং উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের অর্থনৈতিক নীতির বাস্তব চিত্র এখন সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
শুল্ক আরোপ, কর কমানো এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ট্রাম্প যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবে অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সেই সুফল সমানভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বরং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং ধনী পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অবশ্য একেবারে খারাপ অবস্থায় নেই। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট উৎপাদন বার্ষিক হিসাবে প্রায় ৩ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি রয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
শুল্ক ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে সংসারের খরচ
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কারণে। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর তাঁর আরোপ করা ব্যাপক শুল্কের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাবাজারে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী, এসব শুল্কের কারণে ভোগ্যপণ্যের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট গবেষণাগারের হিসাবে, শুধু শুল্কের কারণে চলতি বছর একটি গড় মার্কিন পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। এর ফলে বছরের শেষ নাগাদ একটি গড় পরিবারের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট খরচ আরও প্রায় ১ হাজার ডলার বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বড় আইন ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে গড়ে প্রায় ৩৪০ ডলার বেশি কর ফেরত পাচ্ছেন মার্কিন করদাতারা। নবজাতকদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিনিয়োগ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য নবজাতকের নামে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ১ হাজার ডলার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে এসব সুবিধার বড় অংশই যাচ্ছে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর কাছে। আইনটিতে ধনীদের কর কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ লাখের বেশি আমেরিকান খাদ্যসহায়তার সুবিধা হারিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইডেও প্রবেশাধিকার কঠোর করা হয়েছে।
ধনীদের আয় বাড়ছে, দরিদ্রদের ক্ষতি
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে শুল্ক, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং নতুন কর ও ব্যয় আইনের প্রভাব বিভিন্ন আয়ের পরিবারের ওপর তুলনা করা হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ পরিবারের গড় কর-পরবর্তী আয় ও সরকারি সহায়তা মিলিয়ে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার ডলার। ট্রাম্পের নীতির কারণে তাদের আয়ের প্রায় ৩ শতাংশ সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
অন্যদিকে, সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ পরিবারের গড় কর-পরবর্তী আয় প্রায় ৫ লাখ ডলার। তাদের ক্ষেত্রে একই নীতির ফলে প্রায় ৩ শতাংশ আর্থিক লাভ হতে পারে। মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ডলার আয় করা এসব পরিবারের ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ ডলারের বেশি হতে পারে।
এর বাইরেও স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে। গত বছর কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ট্রাম্পও সমর্থন করেছিলেন, তাতে ওবামাকেয়ার কর্মসূচির বর্ধিত ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যবিমা কেনা মানুষের গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম প্রায় ৮০০ ডলার বেড়েছে।
অর্থাৎ কর ছাড়ের মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত এলেও পণ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসার বাড়তি খরচ সেই সুবিধার বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে।
বাড়ির মালিক হওয়া আরও কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের আরেকটি বড় উদ্বেগ আবাসন ব্যয়। ট্রাম্পের নীতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। বাড়ি কেনার ঋণের সুদ ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার নতুন বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে।
যাঁদের আগে থেকেই বাড়ি রয়েছে, তাঁদের অনেকেই কম সুদের পুরোনো ঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহও কমছে।
নতুন বাড়ি নির্মাণের খরচও বেড়েছে। নির্মাণসামগ্রীর ওপর শুল্ক আরোপের কারণে একটি সাধারণ নতুন বাড়ির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১১ হাজার ডলার বাড়তে পারে বলে গত বছর নির্মাণশিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছিল।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি। নির্মাণশিল্পে অভিবাসী শ্রমিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ফলে শ্রমিকের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং শ্রমের খরচ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্সের সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নির্মাণশ্রমিকের ব্যয় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে সাধারণ ক্রেতাদের উপযোগী অপেক্ষাকৃত কম দামের বাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
এতে আবাসনবাজারে একটি স্পষ্ট বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য বেশি, তাঁরা বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান এমন পরিবারগুলোর জন্য বাজার ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
কর্মসংস্থানে শিল্প খাতের পুনরুজ্জীবন অধরা
ট্রাম্পের অন্যতম বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে একসময় বিপুলসংখ্যক মানুষ কারখানায় কাজ করতেন, সেসব এলাকায় নতুন চাকরি তৈরি করার কথা বলেছিলেন তিনি।
কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে যত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, তার প্রায় সবটাই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। দেশটির বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় এসব সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতও নতুন কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ এবং এ-সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার কারণে সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে।
কিন্তু অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থানের চিত্র প্রায় স্থবির। বেসরকারি খাতে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় প্রকৃত হিসাবে শ্রমিকদের ঘণ্টাপ্রতি আয় গত বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক উৎপাদনে শ্রমিকদের আয়ের অংশ ১৯৪৭ সালে হিসাব রাখা শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্যবসার মালিকদের আয় শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে এই পতনের কিছু অংশ ব্যাখ্যা করা যায়। তবে তাতেও পুরো চিত্রের পরিবর্তন হয় না।
শিল্প উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও কারখানায় কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়েনি। বরং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে উৎপাদন খাতে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। গত এক বছরে কারখানার শ্রমিকদের মজুরিও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
উত্তর ক্যারোলাইনায় পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্যে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে সেখানে প্রায় ৯ হাজার কারখানার চাকরি হারিয়ে গেছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের কাছে তাঁর শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শেয়ারবাজারের উত্থানে লাভবান মূলত ধনীরা
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সময়টি তুলনামূলকভাবে ভালো। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে বিনিয়োগের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিন্তু শেয়ারবাজারের এই উত্থানের সুফলও সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়নি।
ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে থাকা সম্পদের মূল্য প্রায় ১৭ লাখ কোটি ডলার বেড়েছে। কিন্তু এই বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশই পেয়েছে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ পরিবার। বিপরীতে, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অর্ধেক পরিবারের ভাগে পড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সম্পদের বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। যাঁদের আগে থেকেই শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগ রয়েছে, এআই-নির্ভর বাজারের উত্থানে তাঁদের সম্পদ বাড়ছে। কিন্তু যাঁদের বিনিয়োগের সামর্থ্য নেই, তাঁরা এই প্রবৃদ্ধির সুবিধা থেকে প্রায় বাইরে থাকছেন।
অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শেয়ারবাজারের উত্থান কিংবা কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি—কোনোটিই সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে পারছে না।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং অবনতি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থক ও দলটির প্রতি ঝোঁক রয়েছে এমন স্বতন্ত্র ভোটারদের ৩৫ শতাংশও একই মত দিয়েছেন। বছরের জানুয়ারিতে এই হার ছিল এর প্রায় অর্ধেক।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও শুল্কের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা কৃষকদের মধ্যেও রাজনৈতিক সমর্থনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁদের একটি অংশ এখন ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু যাঁরা প্রতিদিনের বাজার খরচ, বাড়িভাড়া, জ্বালানি ও চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির মূল দ্বন্দ্বটি এখানেই। সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি থাকলেই যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বরং কর ছাড়, শুল্ক, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় এবং সরকারি সহায়তা কমানোর সম্মিলিত প্রভাবে সমাজের বিভিন্ন আয়ের মানুষের মধ্যে লাভ-ক্ষতির ব্যবধান বাড়ছে।
অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে, শেয়ারবাজারে সম্পদ বাড়ছে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগও হচ্ছে। কিন্তু এসব অর্জনের সুফল যদি সাধারণ শ্রমিক, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং মধ্যবিত্তের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে অর্থনৈতিক সাফল্যের সরকারি হিসাব ও মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান থেকেই যাবে।
ট্রাম্পের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নয়; সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছে দেওয়া।












