ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় এখন একটি প্রশ্ন ক্রমেই সামনে আসছে—নরেন্দ্র মোদির বিকল্প হিসেবে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব দেবেন কে? সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে ভোট জালিয়াতির অভিযোগের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর বড় সমাবেশে যে জনসমাগম দেখা গেছে, তাতে অনেকের কাছেই রাহুল গান্ধীকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষ হয়তো তাঁকে এমন একজন নেতা হিসেবে দেখতে চান, যিনি দেশকে বিদ্বেষনির্ভর বিভাজনের রাজনীতি এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের সংকট থেকে বের করে আনতে পারবেন।
কিন্তু জনসমর্থন আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্ষমতা এক বিষয় নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রাহুল গান্ধী নিজেই কি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী?
ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তরুণদের রাজপথে নেমে আসা কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থার প্রশ্নও। একটি সরকার যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জনের পরিবর্তে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগের মুখে পড়ে, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
ভারত অবশ্য একা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান, সংখ্যালঘু অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে পড়ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাও এ প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতির সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার সম্পর্ক দুই দেশেই বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলে আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা এবং ভারতে মুসলিম ভোটারসহ সরকারের সম্ভাব্য বিরোধীদের নির্বাচনী অধিকার সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে। ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি পেগাসাস নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘটনাও ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সক্ষমতা
রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার পক্ষে যুক্তি একেবারে অমূলক নয়। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক বিভাজন কমানো এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান তাঁকে বিরোধী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করেছে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রকাশ্য অবস্থানও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বড় অংশ যখন এ বিষয়ে নীরব থেকেছে, তখন গান্ধী পরিবারের এই অবস্থান তাদের আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে এর রাজনৈতিক মূল্যও রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতার সমীকরণে এ ধরনের অবস্থান তাদের আরও বেশি রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলতে পারে।
তবু রাহুল গান্ধীর সামনে বড় প্রশ্ন হলো, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই পরিচালনার জন্য তিনি কতটা প্রস্তুত? প্রিয়াঙ্ক খাড়গে, এম কে স্ট্যালিন কিংবা অখিলেশ যাদবের মতো নেতাদের মধ্যে যে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাত মোকাবিলার অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তা দেখা যায়, রাহুলের মধ্যে তার কতটা রয়েছে?
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আর সেই ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করে বিকল্প প্রতিষ্ঠা করা এক নয়। বিশেষ করে যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন এবং আদর্শিক প্রচারণার মধ্যে ক্ষমতাসীনদের দীর্ঘদিনের প্রভাব থাকে, তখন শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে সেই কাঠামো মোকাবিলা করা কঠিন।
নেহরু-গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস কী বলে
রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে হলে নেহরু-গান্ধী পরিবারের ইতিহাসও বিবেচনায় নিতে হবে। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি প্রায়ই জওহরলাল নেহরু ও তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার অভিযোগ তোলে। কিন্তু ইতিহাসের ঘটনাগুলো এই প্রচলিত ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরু সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও অন্তত দুবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। দেশভাগের পর শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে ১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
১৯৫৮ সালেও মানসিক ক্লান্তি, আদর্শিক হতাশা এবং রাজনীতির ক্রমাবনতিশীল পরিবেশের কথা উল্লেখ করে দায়িত্ব থেকে বিরতি নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নেহরু। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়। কংগ্রেসের নেতারাও তাঁকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানান।
নেহরু কি তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধীকে উত্তরসূরি করতে চেয়েছিলেন? ইতিহাসের প্রমাণ বরং ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। ১৯৫২ সালে তিনি তরুণ সমাজতান্ত্রিক নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণকে নিজের উপপ্রধান হিসেবে দেখতে আগ্রহী ছিলেন বলে জানা যায়। জয়প্রকাশ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। ইন্দিরাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া কিংবা ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তুত করার কোনো স্পষ্ট উদ্যোগও নেহরুর মধ্যে দেখা যায়নি।
বরং কংগ্রেসের ডানপন্থী নেতা মোরারজি দেশাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নেহরু সতর্ক ছিলেন। দলের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের পদত্যাগ করে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার একটি পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। একই সময়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নিজের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
তাশখন্দে শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর উত্তরসূরি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। মোরারজি দেশাইয়ের রাজনৈতিক উত্থান ঠেকাতে দলের প্রভাবশালী আঞ্চলিক নেতারা ইন্দিরা গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁদের ধারণা ছিল, ইন্দিরাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তাদের সেই হিসাব পাল্টে দেয়।
ইন্দিরা গান্ধী প্রথমদিকে তাঁকে সমর্থন দেওয়া রক্ষণশীল, ব্যবসাবান্ধব ও সমাজতন্ত্রবিরোধী সিন্ডিকেটের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস ভাঙার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেন। কমিউনিস্টদের সমর্থন নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করেন। তবে জরুরি অবস্থা জারির পর বামপন্থীদের সমর্থন হারিয়ে তিনি আবার রক্ষণশীল ও ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদী শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পাঞ্জাব নিয়ে তাঁর সরকারের নীতির পেছনেও এসব শক্তির প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।

রাজীব ও সোনিয়ার রাজনীতিতে আসার গল্প
রাজীব গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের শুরুটিও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে হয়নি। তিনি ছিলেন মূলত ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের প্রতি মনোযোগী একজন মানুষ। ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধীর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর মায়ের পাশে দাঁড়াতে তাঁকে রাজনীতিতে আসতে হয়। ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়ে যায়।
সোনিয়া গান্ধীও রাজীবের রাজনীতিতে প্রবেশের বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি আবেগপূর্ণ এক আলোচনায় তিনি রাজীবকে প্রধানমন্ত্রী হতে নিষেধ করেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, রাজনীতিতে প্রবেশ করলে রাজীবের জীবনও বিপন্ন হতে পারে। কিন্তু রাজীবের জবাব ছিল, তিনি ইন্দিরার ছেলে; এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব না নিলে আর কে নেবে? এটি কি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, নাকি পারিবারিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ?
১৯৯৯ সালে সোনিয়া গান্ধী ২৭২ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন থাকার দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিলেন। এ ঘটনা তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। কিন্তু ২০০৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ না করে মনমোহন সিংকে সেই পদে বসান। রাজীব ও সোনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা আর ডি প্রধানের ২০১৪ সালের একটি বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৯ সাল থেকেই সোনিয়া মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ না করেও সোনিয়া সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছিলেন। তিনি জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন, যা আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে মনমোহন সিং সরকারের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে। দারিদ্র্য বিমোচন, তথ্য অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বেসরকারীকরণ বন্ধের মতো প্রগতিশীল উদ্যোগে পরিষদটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব নীতির সঙ্গে নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনেরও মিল ছিল।
রাহুলের জন্য কি প্রধানমন্ত্রীর পদই একমাত্র পথ?
রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রেও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর বেড়ে ওঠা, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং গণতন্ত্র সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু ভারতের বর্তমান রাজনীতির বাস্তবতা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।
ডানপন্থী রাজনীতির আক্রমণাত্মক বিস্তার, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষমতাসীনদের প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে শুধু আদর্শিক অবস্থান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি, তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব এবং প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা।
রাহুল গান্ধী বিরোধী রাজনীতির একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হতে পারেন। কিন্তু তাঁকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সবটাই হয়তো তাঁর নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন নয়। বরং বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বের সংকট এবং মোদি সরকারের বিকল্প খোঁজার তাগিদ থেকেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর আলোচনা জোরালো হয়েছে।
এখানেই মূল প্রশ্নটি আবার সামনে আসে। সবাই যখন রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন, তখন কেউ কি তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছেন, তিনি নিজে এই দায়িত্ব নিতে চান কি না?
নেহরু-গান্ধী পরিবারের ইতিহাস বিবেচনায় নিলে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে রাহুলের রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর পদ অর্জন নয়। তিনি হয়তো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার এবং নিজের রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষে লড়াই করাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
আর যদি তাই হয়, তাহলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেয়ে এমন একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই বেশি জরুরি, যা ক্ষমতাসীনদের মোকাবিলা করতে সক্ষম। কারণ ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় লড়াই শুধু কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে নয়; বরং রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, সেটিই হবে নির্ধারক প্রশ্ন।












