অক্টোবরে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৭ কোটি ডলারে, যা আগের মাস সেপ্টেম্বরের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিরা মাসজুড়ে বৈধ পথে এই অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। বিদেশে কাজ করা মানুষের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।
সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ১১ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩.৯ শতাংশ। অক্টোবরের হিসাবে দৈনিক গড় আয় দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অক্টোবরে প্রবাসী আয়ের এই গতি ধরে রাখতে পারলে নভেম্বরেও ভালো অঙ্কের আশা করা যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের হিসাবও উৎসাহজনক। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ১ হাজার ১৪৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাসের পর মাস আয়ের ধারা মোটামুটি স্থিতিশীল থেকেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার অঙ্ক বের করতে প্রতি ডলারকে ১২৩ টাকা ধরেছে। বিনিময় হার বদলালে টাকার অঙ্কও বদলে যায়, কিন্তু ডলারের হিসাবে আয়ের পরিমাণ একই থাকে। তাই মাসে মাসে তুলনার জন্য ডলারের অঙ্কই বেশি নির্ভরযোগ্য। কোন পথে কত অর্থ এল, সেই তথ্যও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আছে। অক্টোবরে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২১২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫০ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের হাত ধরেই এসেছে প্রায় ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। বিদেশি ব্যাংকের শাখাগুলোর মাধ্যমে এসেছে খুবই সামান্য অর্থ, প্রায় ৪৯ লাখ ডলার।
এই আয়ের বড় অংশ আসে ব্যাংকিং চ্যানেলে, তাই সরকারি হিসাবে তা সহজেই ধরা পড়ে। হুন্ডির মতো অবৈধ পথে পাঠানো অর্থ এই হিসাবের বাইরে থেকে যায়। বৈধ পথে টাকা পাঠালে প্রবাসীরা অনেক সময় সরকারের দেওয়া প্রণোদনাও পান। এতে পরিবারের হাতে টাকা পৌঁছায় নিরাপদে, আর দেশের রিজার্ভেও ডলার যোগ হয়। অক্টোবরে প্রবাসী আয়ের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি। প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় অসংখ্য পরিবার ঘরভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা আর দৈনন্দিন খরচ চালায়। গ্রামে বাড়ি তোলা বা ছোট ব্যবসা শুরু করার পুঁজিও অনেক সময় আসে এই পথেই। দেশের অর্থনীতির জন্যও এটি বড় ভরসা, কারণ আমদানির বিল মেটাতে ডলারের জোগান দরকার হয়।
তবে কোনো এক মাসের আয় দেখে সামনের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। বিদেশের শ্রমবাজারের অবস্থা, ডলারের বিনিময় হার আর বৈধ পথে টাকা পাঠানোর সুবিধার ওপর এই আয় অনেকটাই নির্ভর করে। দেশে পোশাক খাতের অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী আয়ের এই ধারা অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। ব্যাংকগুলো প্রতিদিনের হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়, তাই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের তথ্য পেলেই বোঝা যাবে ধারাটি কোনদিকে যাচ্ছে। অক্টোবরে প্রবাসী আয়ের এই বাড়তি অঙ্ক তাই আপাতত আশার কথা শোনালেও চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে আরও কয়েক মাস পর।












