বাংলাদেশের রপ্তানি আয় অক্টোবরে আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৪.৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩৯৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি আয় বলতে এখানে বিদেশে পণ্য বিক্রি করে পাওয়া ডলারের হিসাব বোঝানো হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এই আয়ের বড় অংশ এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। অক্টোবরে পোশাক রপ্তানি করে দেশ আয় করেছে প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৪.৯০ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই এসেছে এই একটি খাত থেকে।
পোশাকের ভেতরে নিটওয়্যারের গতি বেশি ছিল। টি-শার্ট ও পোলো শার্টের মতো পোশাক নিটওয়্যারের মধ্যে পড়ে, আর শার্ট ও প্যান্টের মতো কাপড়ের পোশাককে বলা হয় ওভেন। অক্টোবরে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৬.৪৮ শতাংশ, আর ওভেন পোশাকের বেড়েছে ২.৯৬ শতাংশ। নিটওয়্যার থেকে এসেছে প্রায় ১৭৭ কোটি ডলার, আর ওভেন থেকে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার। সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে পোশাক রপ্তানির ভরা মৌসুম ধরা হয়, কারণ তখন বিদেশি ক্রেতারা শীত ও বড়দিনের বাজারের জন্য বেশি কেনাকাটা করেন।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের হিসাবও একই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৮৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পোশাক খাত থেকে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫ কোটি ডলার। এই খাতেও প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫.৮ শতাংশ। অর্থাৎ অক্টোবরে রপ্তানি আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি চার মাসের সামগ্রিক চিত্রও ইতিবাচক। এই হিসাবে অক্টোবরে রপ্তানি আয় বাড়ার খবর অর্থনীতির জন্য স্বস্তির, কারণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এই পোশাক খাতই।
বাজারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ। এই সময়ে তুরস্কেও রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা এবং দেশীয় উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত চেষ্টার কথা বলেছে। সংস্থাটি পণ্যের মান, নতুন বাজার খোঁজা এবং বাণিজ্য-প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। এই খাতে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, আর রপ্তানির আয় থেকেই আমদানির বিল মেটানো এবং রিজার্ভ ধরে রাখার বড় অংশ আসে।
তবে এই হিসাব অক্টোবরের। নভেম্বরের শুরুতে পোশাক কারখানাগুলোয় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কিছু এলাকায় কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব এই তথ্যে ধরা পড়েনি, তাই রপ্তানি আয়ের ধারা নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কেমন থাকবে, তা আরও কয়েক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে। ক্রেতারা সময়মতো পণ্য পেতে চান, তাই ভরা মৌসুমে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকা জরুরি। অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়ে গেলেও সেই গতি ধরে রাখাই এখন খাতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।












