যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কায় থাকলেও এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বাণিজ্যিক স্বস্তি আসার সম্ভাবনা কম। কারণ, ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যের প্রচলিত কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর তাঁর আকস্মিক ও ব্যাপক শুল্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে।
এসব নীতির অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সামনে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি নিজেদের সমর্থন বা অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে ক্ষুব্ধ ভোটাররা এই নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে পারেন।
ডেমোক্র্যাটরা জিতলেও নীতি বদলের নিশ্চয়তা নেই
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে দলটি। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটাই অনিশ্চিত।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে, নীতিনির্ধারণে বাধা তৈরি করতে পারে এবং কংগ্রেসে জবাবদিহির পরিসর বাড়াতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান রাতারাতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
এশিয়ার বাণিজ্যে স্বস্তি কেন আসছে না
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই বাস্তবতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ইতিমধ্যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য পরাজয় রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এশিয়ার বাণিজ্যে স্বস্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। অর্থাৎ নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, এশিয়ার বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে।












