০৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

ইশকুল (পর্ব-২৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
  • 125

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এরপর চুপ করে গেল ফেকা। এ-ব্যাপারেও ফেকা আমার চেয়ে বেশি জানে দেখে আবারও আমার রাগ ধরে গেল। আমাকেও জানতে হবে ব্যাপারটা, কিন্তু এমন কেউ নেই যার কাছ থেকে জানা যায়। মুশকিল এই যে এর বিন্দুবিসর্গও কোনো বইতে নেই। কেউ কখনও এ-বিষয়ে আমায় কিছু বলেও নি।

বাড়ি ফিরে খাওয়াদাওয়ার পর মা যখন বিশ্রাম নিতে শুয়েছেন তখন গুটিগুটি বিছানায় উঠে মা-র পাশে বসলুম। বললুম:

‘মা-মণি, আমায় উনিশ শো পাঁচ সম্বন্ধে কিছু বল না গো। অন্য ছেলেদের বাবা-মারা তো তাদের এ-সম্বন্ধে কত গল্প বলে। ফেদুকা কত মজার মজার গপ্পো জানে। আমি কিছুই জানতে পারি না, আমায় তোমরা কিছুই বল না।’

কথাটা শুনে ভুরু কুচকে মা হঠাৎ আমার দিকে ঘুরে তাকালেন। মনে হল, বুঝি আমায় বকতে যাচ্ছেন। তারপর আরও কী মনে ‘করে এমন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকালেন যেন জীবনে এই প্রথম তিনি আমায় দেখছেন।

‘উনিশ শো পাঁচ? কী বলছিস তুই?’

‘কী বলছি তা তো ভালোই জান। তুমি তো কত বড়, কত গায়ে জোর তোমার। ওই সময়ে তুমি নিশ্চয় অনেক বড় হয়ে গিয়েছিলে। আমি তো তখন এক বছরের বাচ্চা। আমার যে কিছু মনে নেই।’

‘আমি কী বলব বল? বরং তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। উনি খুব ভালো গল্প বলতে পারেন। উনিশ শো পাঁচ সালে আমার যা জঘন্য দিন গেছে তোকে নিয়ে। এই ছোট্ট বাঁদরটার জন্যে কম ভুগি নি। তুই যা ছিলি না তখন, ভাবলে ভয় হয়। দিনরাত খালি চিল-চ্যাঁচাতিস। এক দণ্ড শান্তি ছিল না আমার। সারা রাত ধরে চ্যাঁচাতিস আর আমায় জালাতিস, তখন আমি কে, কোথায়-বা আছি, এসব কিছু হাশ ছিল না কি?’

কথাটা শুনে মনে একটু আঘাত পেলুম। বললুম, ‘কেন চ্যাঁচাতুম মা-মণি? বোধহয় ভয় পেয়ে, না? শুনেছি তখন নাকি গুলি চলেছিল আর কসাকরা অত্যাচার করেছিল। আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলুম, নয়?’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

ইশকুল (পর্ব-২৮)

০৮:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এরপর চুপ করে গেল ফেকা। এ-ব্যাপারেও ফেকা আমার চেয়ে বেশি জানে দেখে আবারও আমার রাগ ধরে গেল। আমাকেও জানতে হবে ব্যাপারটা, কিন্তু এমন কেউ নেই যার কাছ থেকে জানা যায়। মুশকিল এই যে এর বিন্দুবিসর্গও কোনো বইতে নেই। কেউ কখনও এ-বিষয়ে আমায় কিছু বলেও নি।

বাড়ি ফিরে খাওয়াদাওয়ার পর মা যখন বিশ্রাম নিতে শুয়েছেন তখন গুটিগুটি বিছানায় উঠে মা-র পাশে বসলুম। বললুম:

‘মা-মণি, আমায় উনিশ শো পাঁচ সম্বন্ধে কিছু বল না গো। অন্য ছেলেদের বাবা-মারা তো তাদের এ-সম্বন্ধে কত গল্প বলে। ফেদুকা কত মজার মজার গপ্পো জানে। আমি কিছুই জানতে পারি না, আমায় তোমরা কিছুই বল না।’

কথাটা শুনে ভুরু কুচকে মা হঠাৎ আমার দিকে ঘুরে তাকালেন। মনে হল, বুঝি আমায় বকতে যাচ্ছেন। তারপর আরও কী মনে ‘করে এমন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকালেন যেন জীবনে এই প্রথম তিনি আমায় দেখছেন।

‘উনিশ শো পাঁচ? কী বলছিস তুই?’

‘কী বলছি তা তো ভালোই জান। তুমি তো কত বড়, কত গায়ে জোর তোমার। ওই সময়ে তুমি নিশ্চয় অনেক বড় হয়ে গিয়েছিলে। আমি তো তখন এক বছরের বাচ্চা। আমার যে কিছু মনে নেই।’

‘আমি কী বলব বল? বরং তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। উনি খুব ভালো গল্প বলতে পারেন। উনিশ শো পাঁচ সালে আমার যা জঘন্য দিন গেছে তোকে নিয়ে। এই ছোট্ট বাঁদরটার জন্যে কম ভুগি নি। তুই যা ছিলি না তখন, ভাবলে ভয় হয়। দিনরাত খালি চিল-চ্যাঁচাতিস। এক দণ্ড শান্তি ছিল না আমার। সারা রাত ধরে চ্যাঁচাতিস আর আমায় জালাতিস, তখন আমি কে, কোথায়-বা আছি, এসব কিছু হাশ ছিল না কি?’

কথাটা শুনে মনে একটু আঘাত পেলুম। বললুম, ‘কেন চ্যাঁচাতুম মা-মণি? বোধহয় ভয় পেয়ে, না? শুনেছি তখন নাকি গুলি চলেছিল আর কসাকরা অত্যাচার করেছিল। আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলুম, নয়?’