ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী ফেরি উল্টে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১৩০ জন। রোববার ভোররাত দুইটার দিকে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্ধার হয়েছেন ১০৭ জন।
জাপানে নির্মিত ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রী তালিকায় ছিলেন ২১৩ জন যাত্রী এবং ৩০ জন ক্রু, মোট ২৪৩ জন। ইন্দোনেশিয়ায় প্রকৃত যাত্রীসংখ্যা তালিকার চেয়ে বেশি হওয়ার নজির বহু। বানজারমাসিন বন্দর থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সমুদ্র তখন উত্তাল ছিল এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল তিন মিটার পর্যন্ত। বানজারমাসিন অনুসন্ধান ও উদ্ধার দপ্তরের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, জাহাজটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পড়েছিল বলে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানায়। ক্যাপ্টেন প্রথমে জাহাজ কাত হয়ে যাওয়ার খবর দেন, এরপর বিপদসংকেত পাঠানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরিটি উল্টে ডুবে যায়। একটি নৌবাহিনীর জাহাজসহ চারটি নৌযান, একটি হেলিকপ্টার, টাগবোট এবং আশপাশ দিয়ে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় নৌদুর্ঘটনা নতুন নয়। হাজারো দ্বীপের এই অঞ্চলে ফেরিই প্রধান বাহন, অথচ যাত্রী গণনা ও আবহাওয়া সতর্কতা মানার ক্ষেত্রে শিথিলতা বারবার দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া ফেরি দুর্ঘটনা তাই কাঠামোগত সমস্যার লক্ষণ, নিছক দুর্ভাগ্য নয়।
বাংলাদেশের পাঠকের কাছে দৃশ্যটি পরিচিত। অতিরিক্ত যাত্রী, দুর্যোগের সতর্কবার্তা উপেক্ষা এবং তালিকার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক, এই তিনটি উপাদান দেশের নদীপথেও বারবার ফিরে আসে। ইন্দোনেশিয়া ফেরি দুর্ঘটনার তদন্তে যাত্রী তালিকার নির্ভরযোগ্যতা কতটা যাচাই হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। উদ্ধারকারীরা এখনো জানেন না জাহাজে আসলে কতজন ছিলেন, আর এই অজানা সংখ্যাটিই তল্লাশির সবচেয়ে কঠিন অংশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















