০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূতের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট চাইছে জান্তা ভানুয়াতুতে ফেরি ডুবে নিখোঁজ ৩০, উঠছে অতিরিক্ত বোঝাইয়ের প্রশ্ন ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য ব্যয় হয় মাত্র ৫% বিদ্যুৎ হোটেলের কক্ষে মিলল এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের মরদেহ, ভেতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা ‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন’, আদালতে মিষ্টি সুভাষ হুথিদের দখলে কৌশলগত দ্বীপ, বাব আল-মান্দাব ঘিরে বাড়ছে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ব্রিকসে ঐক্যের বার্তা, বৈশ্বিক দক্ষিণের শক্তি বাড়ানোর ডাক মোদি-শি-পুতিনের জাভা সাগরে ফেরি উল্টে নিখোঁজ ১৩০, উদ্ধার ১০৭ সংস্কারবিরোধী সংবিধান? হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ১,০২২

সংস্কারবিরোধী সংবিধান?

পাকিস্তানের কাঠামোগত সংস্কারের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সেই সংস্কারের অনুমোদন কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বদলালে একদিকে নতুন সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে বর্তমান ব্যবস্থায় সুবিধা পাওয়া অনেক গোষ্ঠী ক্ষমতা, অর্থ, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। ফলে পরিবর্তনের প্রয়োজন যতই স্পষ্ট হোক, সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে সেই পক্ষগুলোর হাতে, যাদের স্বার্থ বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গেই জড়িত।

নতুন প্রদেশ বা প্রশাসনিক অঞ্চল গঠনের বিষয়টি এর স্পষ্ট উদাহরণ। এমন পরিবর্তনে সাধারণ নাগরিক, শহর, জেলা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনসেবা ব্যবস্থার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে বড় প্রাদেশিক রাজনৈতিক কাঠামো, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, আমলাতন্ত্র, ঠিকাদারি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ক এবং বিস্তৃত ভূখণ্ড ও বাজেট নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল দলগুলো তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করতে পারে।

এখানেই পাকিস্তানের সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক বৈপরীত্য সামনে আসে। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন চায়, কিন্তু কয়েকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কেন্দ্র তার বিরোধিতা করে, তাহলে সংসদ ও প্রাদেশিক আইনসভায় তাদের নিয়ন্ত্রণের কারণে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই পরিবর্তন আটকে যেতে পারে। অর্থাৎ সংস্কারের প্রয়োজন যাদের সবচেয়ে বেশি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে নাও থাকতে পারে।

জনগণের চাহিদা বনাম ক্ষমতার কাঠামো

করাচির বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ যদি পানি, পরিবহন ও নগর পরিকল্পনায় আরও কার্যকর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ চায়, কিন্তু প্রাদেশিক ক্ষমতাকেন্দ্র তাতে সম্মতি না দেয়, তাহলে পরিবর্তনের পথ কোথায়? একইভাবে করদাতারা যদি চান অর্থ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব জেলা পর্যায়ে নেমে আসুক, অথচ প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখতে আগ্রহী থাকে, তখন জনচাহিদা বাস্তব নীতিতে রূপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

KARACHI BY NUMBERS - Newspaper - DAWN.COM

সমস্যাটি শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার নয়; এটি রাজনৈতিক অর্থনীতিরও প্রশ্ন। যে ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী বাজেট, নিয়োগ, ঠিকাদারি, ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন তাদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই হুমকি তৈরি করে। ফলে সংস্কারের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তরাই যখন সংস্কারের দরজার প্রহরী হয়ে ওঠে, তখন পুরোনো কাঠামো টিকে থাকার জন্য বাড়তি কোনো শক্তির প্রয়োজন হয় না।

ঐকমত্য কি স্থবিরতার হাতিয়ার?

সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির দাবি গণতান্ত্রিক মনে হলেও বাস্তবে সেটি কখনও কখনও স্থিতাবস্থার সুরক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে। কারণ সংস্কারের ফলে যারা ক্ষমতা হারাবে, তাদের সম্মতি ছাড়া যদি পরিবর্তন সম্ভব না হয়, তাহলে তারা নিজেদের ক্ষতির সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়ার প্রয়োজনই অনুভব করবে না।

তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু সংস্কার কীভাবে করা হবে তা নয়, সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার হাতে থাকবে। গণভোট হতে পারে একটি পথ। আরেকটি পথ হতে পারে ধাপে ধাপে পরিবর্তন। প্রথম পর্যায়ে সীমিত কিন্তু বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন অংশীজনদের হাতে দেওয়া গেলে তারা পরবর্তী সংস্কারের স্বাভাবিক সমর্থকে পরিণত হতে পারে। এতে পরিবর্তন একবারে পুরো কাঠামোকে নাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

মানচিত্র না বদলিয়েও বিকেন্দ্রীকরণ

আরও একটি তুলনামূলকভাবে কম সংঘাতপূর্ণ পথ রয়েছে। চারটি প্রদেশের কাঠামো আপাতত অপরিবর্তিত রেখেই কয়েক ডজন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত আঞ্চলিক ও মহানগর সরকার গঠন করা যেতে পারে। তবে নামমাত্র প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই হবে না। তাদের প্রয়োজন বাস্তব অর্থ, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও নগর পরিকল্পনার মতো মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।

এভাবে প্রথমে ক্ষমতার কাঠামো বদলানো যায়, পরে প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক মানচিত্র পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন সামনে আনা যেতে পারে। কারণ মানুষের কাছে সরকারের কার্যকারিতা অনেক সময় প্রদেশের সীমানার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক যদি নিজের এলাকার পানি, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল কিংবা পরিবহন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ পায়, তাহলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সুফল অনেকটাই বাস্তব হয়ে ওঠে।

The 27th amendment – a step backwards - Islamabad Post

এখানে পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩৯(৪) অনুচ্ছেদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে। এই বিধান কি কোনো প্রদেশের সীমানা পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই প্রাদেশিক পরিষদের সম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে, নাকি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের পুরো ফেডারেল কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একটি স্থায়ী প্রাদেশিক ভেটো তৈরি করে? প্রথম ব্যাখ্যা হলে এটি একটি প্রদেশের সাংবিধানিক সুরক্ষা। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলে এটি পুরো ফেডারেশনকে কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় ফেলতে পারে।

আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো, বিদ্যমান কোনো প্রদেশের সীমানা পরিবর্তন না করে যদি পুরো ফেডারেশনের প্রশাসনিক কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হয়, তাহলেও কি একই সাংবিধানিক বাধা প্রযোজ্য হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আইনি ব্যাখ্যার বিষয় নয়; পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও ক্ষমতার বণ্টনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

স্থিতাবস্থা কেন এত শক্তিশালী

পাকিস্তানে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিরোধ কেবল নীতিগত মতভেদের কারণে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আসল বিষয় হলো বাজেট, নিয়োগ, ঠিকাদারি, ভূখণ্ড এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা। বর্তমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা একই সঙ্গে সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো রাজনৈতিক সংগঠন, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আর্থিক সক্ষমতাও রাখেন।

উন্নয়ন অর্থনীতির দৃষ্টিতে এখানেই সমস্যাটির গভীরতা। একটি সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণ করে না; এটি পরিবর্তনের পথও তৈরি করতে পারে। কিন্তু এমন কোনো সাংবিধানিক কাঠামো যদি পরিবর্তনের সুবিধাভোগীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়, তাহলে সেটি অজান্তেই সংস্কারের পরিবর্তে স্থিতাবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।

পাকিস্তানের সংকট তাই এখন আর কী সংস্কার প্রয়োজন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় অনেক পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা ইতিমধ্যেই রয়েছে। আসল সমস্যা হলো—যাদের অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাদের অনেকেই সেই পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতা ও সুবিধা হারাতে পারেন।

সেখানেই স্থিতাবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি শুধু পরিবর্তনের বিরোধিতা করে না; এমন একটি কাঠামো তৈরি করে, যেখানে পরিবর্তন ঠেকানোর ক্ষমতাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূতের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট চাইছে জান্তা

সংস্কারবিরোধী সংবিধান?

০৭:০০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের কাঠামোগত সংস্কারের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সেই সংস্কারের অনুমোদন কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বদলালে একদিকে নতুন সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে বর্তমান ব্যবস্থায় সুবিধা পাওয়া অনেক গোষ্ঠী ক্ষমতা, অর্থ, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। ফলে পরিবর্তনের প্রয়োজন যতই স্পষ্ট হোক, সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে সেই পক্ষগুলোর হাতে, যাদের স্বার্থ বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গেই জড়িত।

নতুন প্রদেশ বা প্রশাসনিক অঞ্চল গঠনের বিষয়টি এর স্পষ্ট উদাহরণ। এমন পরিবর্তনে সাধারণ নাগরিক, শহর, জেলা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনসেবা ব্যবস্থার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে বড় প্রাদেশিক রাজনৈতিক কাঠামো, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, আমলাতন্ত্র, ঠিকাদারি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ক এবং বিস্তৃত ভূখণ্ড ও বাজেট নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল দলগুলো তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করতে পারে।

এখানেই পাকিস্তানের সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক বৈপরীত্য সামনে আসে। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন চায়, কিন্তু কয়েকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কেন্দ্র তার বিরোধিতা করে, তাহলে সংসদ ও প্রাদেশিক আইনসভায় তাদের নিয়ন্ত্রণের কারণে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই পরিবর্তন আটকে যেতে পারে। অর্থাৎ সংস্কারের প্রয়োজন যাদের সবচেয়ে বেশি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে নাও থাকতে পারে।

জনগণের চাহিদা বনাম ক্ষমতার কাঠামো

করাচির বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ যদি পানি, পরিবহন ও নগর পরিকল্পনায় আরও কার্যকর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ চায়, কিন্তু প্রাদেশিক ক্ষমতাকেন্দ্র তাতে সম্মতি না দেয়, তাহলে পরিবর্তনের পথ কোথায়? একইভাবে করদাতারা যদি চান অর্থ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব জেলা পর্যায়ে নেমে আসুক, অথচ প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখতে আগ্রহী থাকে, তখন জনচাহিদা বাস্তব নীতিতে রূপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

KARACHI BY NUMBERS - Newspaper - DAWN.COM

সমস্যাটি শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার নয়; এটি রাজনৈতিক অর্থনীতিরও প্রশ্ন। যে ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী বাজেট, নিয়োগ, ঠিকাদারি, ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন তাদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই হুমকি তৈরি করে। ফলে সংস্কারের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তরাই যখন সংস্কারের দরজার প্রহরী হয়ে ওঠে, তখন পুরোনো কাঠামো টিকে থাকার জন্য বাড়তি কোনো শক্তির প্রয়োজন হয় না।

ঐকমত্য কি স্থবিরতার হাতিয়ার?

সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির দাবি গণতান্ত্রিক মনে হলেও বাস্তবে সেটি কখনও কখনও স্থিতাবস্থার সুরক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে। কারণ সংস্কারের ফলে যারা ক্ষমতা হারাবে, তাদের সম্মতি ছাড়া যদি পরিবর্তন সম্ভব না হয়, তাহলে তারা নিজেদের ক্ষতির সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়ার প্রয়োজনই অনুভব করবে না।

তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু সংস্কার কীভাবে করা হবে তা নয়, সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার হাতে থাকবে। গণভোট হতে পারে একটি পথ। আরেকটি পথ হতে পারে ধাপে ধাপে পরিবর্তন। প্রথম পর্যায়ে সীমিত কিন্তু বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন অংশীজনদের হাতে দেওয়া গেলে তারা পরবর্তী সংস্কারের স্বাভাবিক সমর্থকে পরিণত হতে পারে। এতে পরিবর্তন একবারে পুরো কাঠামোকে নাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

মানচিত্র না বদলিয়েও বিকেন্দ্রীকরণ

আরও একটি তুলনামূলকভাবে কম সংঘাতপূর্ণ পথ রয়েছে। চারটি প্রদেশের কাঠামো আপাতত অপরিবর্তিত রেখেই কয়েক ডজন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত আঞ্চলিক ও মহানগর সরকার গঠন করা যেতে পারে। তবে নামমাত্র প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই হবে না। তাদের প্রয়োজন বাস্তব অর্থ, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও নগর পরিকল্পনার মতো মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।

এভাবে প্রথমে ক্ষমতার কাঠামো বদলানো যায়, পরে প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক মানচিত্র পুনর্বিন্যাসের প্রশ্ন সামনে আনা যেতে পারে। কারণ মানুষের কাছে সরকারের কার্যকারিতা অনেক সময় প্রদেশের সীমানার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক যদি নিজের এলাকার পানি, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল কিংবা পরিবহন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ পায়, তাহলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সুফল অনেকটাই বাস্তব হয়ে ওঠে।

The 27th amendment – a step backwards - Islamabad Post

এখানে পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩৯(৪) অনুচ্ছেদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে। এই বিধান কি কোনো প্রদেশের সীমানা পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই প্রাদেশিক পরিষদের সম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে, নাকি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের পুরো ফেডারেল কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একটি স্থায়ী প্রাদেশিক ভেটো তৈরি করে? প্রথম ব্যাখ্যা হলে এটি একটি প্রদেশের সাংবিধানিক সুরক্ষা। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলে এটি পুরো ফেডারেশনকে কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় ফেলতে পারে।

আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো, বিদ্যমান কোনো প্রদেশের সীমানা পরিবর্তন না করে যদি পুরো ফেডারেশনের প্রশাসনিক কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হয়, তাহলেও কি একই সাংবিধানিক বাধা প্রযোজ্য হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আইনি ব্যাখ্যার বিষয় নয়; পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও ক্ষমতার বণ্টনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

স্থিতাবস্থা কেন এত শক্তিশালী

পাকিস্তানে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিরোধ কেবল নীতিগত মতভেদের কারণে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আসল বিষয় হলো বাজেট, নিয়োগ, ঠিকাদারি, ভূখণ্ড এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা। বর্তমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা একই সঙ্গে সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো রাজনৈতিক সংগঠন, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আর্থিক সক্ষমতাও রাখেন।

উন্নয়ন অর্থনীতির দৃষ্টিতে এখানেই সমস্যাটির গভীরতা। একটি সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণ করে না; এটি পরিবর্তনের পথও তৈরি করতে পারে। কিন্তু এমন কোনো সাংবিধানিক কাঠামো যদি পরিবর্তনের সুবিধাভোগীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়, তাহলে সেটি অজান্তেই সংস্কারের পরিবর্তে স্থিতাবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।

পাকিস্তানের সংকট তাই এখন আর কী সংস্কার প্রয়োজন, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় অনেক পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা ইতিমধ্যেই রয়েছে। আসল সমস্যা হলো—যাদের অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাদের অনেকেই সেই পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতা ও সুবিধা হারাতে পারেন।

সেখানেই স্থিতাবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি। এটি শুধু পরিবর্তনের বিরোধিতা করে না; এমন একটি কাঠামো তৈরি করে, যেখানে পরিবর্তন ঠেকানোর ক্ষমতাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।