০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিল্লিতে মোদি-পুতিন বৈঠক, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষায় জোর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দক্ষিণ লেবানন, হিজবুল্লাহর বড় ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের ডায়ানার আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ উঠছে নিলামে, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার সেপ্টেম্বরের সেই দিন: ২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত অমলিন নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, এক মঞ্চে পুতিন-পেজেশকিয়ানের পর মোদির সঙ্গে বসছেন শি জিনপিং বাব এল মান্দেব প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপ দখলে হুথিরা, বাড়ছে বিশ্ববাণিজ্যে ঝুঁকি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, পুনর্গঠনে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন নেপালের তাইওয়ানে রাশিয়ার সোভিয়েত আমলের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জাপান-বিরোধী বয়ান নিয়ে নতুন উত্তেজনা ড্রোন হামলার পর দুই দিনের জন্য বন্ধ মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দর তিয়েনআনমেন স্মরণসভার তিন নেতাকে কারাদণ্ড, জরিমানা হংকং অ্যালায়েন্সের

ড্রোন হামলার পর দুই দিনের জন্য বন্ধ মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দর

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ছয়টি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়।

সামরিক সরকার সমর্থিত একটি বড় দেশীয় বিমান সংস্থা জানিয়েছে, হামলার জেরে বিমানবন্দরটি শুক্র ও শনিবার বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিছু সূত্রের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের কারণ দেখিয়ে বিমানবন্দরটি রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটের ফ্লাইট সূচি ব্যাহত হয়েছে।

হামলার দায় ও প্রতিক্রিয়া

সামরিক সরকার দাবি করেছে, হামলাটি একটি বেসামরিক গণপরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, শুধু ফ্লাইট সূচি ব্যাহত হয়েছে। এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলাটি বিমানবন্দর ভবন থেকে কিছুটা দূরে হয়েছে, তবে সতর্কতা হিসেবে পুরো বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকে সন্দেহের তীর রয়েছে, যারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

কেন এই হামলা গুরুত্বপূর্ণ

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো ক্রমাগত সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। মান্দালয় এখনো জান্তা নিয়ন্ত্রিত অন্যতম বড় শহুরে কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন এলাকায় স্বীকৃত ড্রোন হামলা বিরল ঘটনা, যা প্রতিরোধ বাহিনীর সক্ষমতা শহরাঞ্চলেও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

আঞ্চলিক প্রভাব

মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ, বিশেষত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে শরণার্থী স্রোত অব্যাহত থাকায়। বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এই ধরনের ঘটনা পরিস্থিতির জটিলতাকেই তুলে ধরছে।

বেসামরিক বিমান চলাচলে ঝুঁকি

মান্দালয় বিমানবন্দর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে মিয়ানমারের আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা জারি করে রেখেছে, এবং এমন হামলার পুনরাবৃত্তি হলে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর রুট পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।

যুদ্ধের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী তথা গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে সংঘাত ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে। শহরাঞ্চলে ড্রোন হামলার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া সামরিক জান্তার জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রতিরোধ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি

সস্তা বাণিজ্যিক ড্রোন সংশোধন করে আত্মঘাতী অস্ত্রে রূপান্তরের কৌশল মিয়ানমারের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। জান্তা বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা আগামী দিনে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যাত্রীদের ভোগান্তি

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় নির্ধারিত ফ্লাইটের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তন আনতে হয়েছে, অনেককেই বিকল্প রুট বা পরবর্তী সময়ের ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনিতেই গৃহযুদ্ধের কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে, এই ধরনের আকস্মিক বিঘ্ন সেই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে মোদি-পুতিন বৈঠক, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষায় জোর

ড্রোন হামলার পর দুই দিনের জন্য বন্ধ মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দর

০৬:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ছয়টি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়।

সামরিক সরকার সমর্থিত একটি বড় দেশীয় বিমান সংস্থা জানিয়েছে, হামলার জেরে বিমানবন্দরটি শুক্র ও শনিবার বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিছু সূত্রের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের কারণ দেখিয়ে বিমানবন্দরটি রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটের ফ্লাইট সূচি ব্যাহত হয়েছে।

হামলার দায় ও প্রতিক্রিয়া

সামরিক সরকার দাবি করেছে, হামলাটি একটি বেসামরিক গণপরিবহন ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, শুধু ফ্লাইট সূচি ব্যাহত হয়েছে। এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলাটি বিমানবন্দর ভবন থেকে কিছুটা দূরে হয়েছে, তবে সতর্কতা হিসেবে পুরো বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকে সন্দেহের তীর রয়েছে, যারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

কেন এই হামলা গুরুত্বপূর্ণ

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো ক্রমাগত সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। মান্দালয় এখনো জান্তা নিয়ন্ত্রিত অন্যতম বড় শহুরে কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন এলাকায় স্বীকৃত ড্রোন হামলা বিরল ঘটনা, যা প্রতিরোধ বাহিনীর সক্ষমতা শহরাঞ্চলেও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

আঞ্চলিক প্রভাব

মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ, বিশেষত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে শরণার্থী স্রোত অব্যাহত থাকায়। বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এই ধরনের ঘটনা পরিস্থিতির জটিলতাকেই তুলে ধরছে।

বেসামরিক বিমান চলাচলে ঝুঁকি

মান্দালয় বিমানবন্দর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে মিয়ানমারের আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা জারি করে রেখেছে, এবং এমন হামলার পুনরাবৃত্তি হলে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর রুট পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।

যুদ্ধের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী তথা গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে সংঘাত ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে। শহরাঞ্চলে ড্রোন হামলার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া সামরিক জান্তার জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রতিরোধ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি

সস্তা বাণিজ্যিক ড্রোন সংশোধন করে আত্মঘাতী অস্ত্রে রূপান্তরের কৌশল মিয়ানমারের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। জান্তা বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা আগামী দিনে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যাত্রীদের ভোগান্তি

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় নির্ধারিত ফ্লাইটের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তন আনতে হয়েছে, অনেককেই বিকল্প রুট বা পরবর্তী সময়ের ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনিতেই গৃহযুদ্ধের কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে, এই ধরনের আকস্মিক বিঘ্ন সেই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।