ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্
সম্মেলনের আগেই শুক্রবার বিকেলে মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি বিষয় গুরুত্ব পায়। রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। একই দিন সন্ধ্যায় মোদি বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে, যা আট বছরের মধ্যে পেজেশকিয়ানের প্রথম ভারত সফর। এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে।
শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক সফর
শনিবার সন্ধ্যায় মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি টোয়েন্টি সম্মেলনও এড়িয়ে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের বৈঠক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।
সম্প্রসারিত ব্রিকস জোট
বর্তমানে এগারো সদস্যের এই জোটে রাশিয়া, চীন, ইরানের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে সীমান্ত বাণিজ্য, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য তাৎপর্য
একইসঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের নয়াদিল্লিতে সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গু
গালওয়ান পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠন
২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘদিন হিমশীতল অবস্থায় ছিল, সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছিল। শি জিনপিংয়ের এবারের সফরকে তাই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্
জ্বালানি ও বাণিজ্য কূটনীতি
মোদি-পুতিন বৈঠকে জ্বালানি বাণিজ্য বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কারণ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কেও উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর প্রস্তাব আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পেজেশকিয়ানের সফরের প্রেক্ষাপট
আট বছর পর ইরানি প্রেসিডেন্টের এই ভারত সফর পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে হরমুজ ও বাব এল মান্দেব প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা চলমান রয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দরসহ একাধিক কৌশলগত প্রকল্পে জড়িত থাকায় এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















