১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ উপকূলীয় শহরে গ্রিজলির হানা, স্কুলে আশ্রয় নির্দেশ; ‘সহাবস্থান’ নাকি সরিয়ে নেওয়া—দ্বিধায় বাসিন্দারা মূল্যস্ফীতি ৩.৪%-এ অনড়, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেই কি ইরান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ঘাঁটিতে? শান্তির দূত হতে চায় ব্রিকস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে শির সঙ্গে মোদির বৈঠক পদ্মার পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে ৩৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রাজধানীর আদাবরে ১০ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, এক মঞ্চে পুতিন-পেজেশকিয়ানের পর মোদির সঙ্গে বসছেন শি জিনপিং

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হতে যাচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর।

সম্মেলনের আগেই শুক্রবার বিকেলে মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি বিষয় গুরুত্ব পায়। রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। একই দিন সন্ধ্যায় মোদি বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে, যা আট বছরের মধ্যে পেজেশকিয়ানের প্রথম ভারত সফর। এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে।

শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক সফর

শনিবার সন্ধ্যায় মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি টোয়েন্টি সম্মেলনও এড়িয়ে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের বৈঠক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

সম্প্রসারিত ব্রিকস জোট

বর্তমানে এগারো সদস্যের এই জোটে রাশিয়া, চীন, ইরানের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে সীমান্ত বাণিজ্য, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য তাৎপর্য

একইসঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের নয়াদিল্লিতে সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতি কিংবা অবনতি উভয়ই আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে। সম্মেলন শেষে চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে কী অগ্রাধিকার পায়, তা নিয়ে আগ্রহ থাকবে গোটা অঞ্চলের।BRICS Summit: দিল্লিতে ব্রিকসের মহা আয়োজন! আসছেন পুতিন-জিনপিং, প্রস্তুতির  ঝলক সামনে আনলেন মোদী

গালওয়ান পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠন

২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘদিন হিমশীতল অবস্থায় ছিল, সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছিল। শি জিনপিংয়ের এবারের সফরকে তাই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান না হলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রতি দুই পক্ষেরই আগ্রহ স্পষ্ট।

জ্বালানি ও বাণিজ্য কূটনীতি

মোদি-পুতিন বৈঠকে জ্বালানি বাণিজ্য বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কারণ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কেও উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর প্রস্তাব আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পেজেশকিয়ানের সফরের প্রেক্ষাপট

আট বছর পর ইরানি প্রেসিডেন্টের এই ভারত সফর পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে হরমুজ ও বাব এল মান্দেব প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা চলমান রয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দরসহ একাধিক কৌশলগত প্রকল্পে জড়িত থাকায় এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, এক মঞ্চে পুতিন-পেজেশকিয়ানের পর মোদির সঙ্গে বসছেন শি জিনপিং

০৭:০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হতে যাচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর।

সম্মেলনের আগেই শুক্রবার বিকেলে মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি বিষয় গুরুত্ব পায়। রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। একই দিন সন্ধ্যায় মোদি বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে, যা আট বছরের মধ্যে পেজেশকিয়ানের প্রথম ভারত সফর। এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে।

শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক সফর

শনিবার সন্ধ্যায় মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি টোয়েন্টি সম্মেলনও এড়িয়ে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের বৈঠক প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

সম্প্রসারিত ব্রিকস জোট

বর্তমানে এগারো সদস্যের এই জোটে রাশিয়া, চীন, ইরানের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে সীমান্ত বাণিজ্য, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন এবং গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য তাৎপর্য

একইসঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের নয়াদিল্লিতে সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতি কিংবা অবনতি উভয়ই আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে। সম্মেলন শেষে চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে কী অগ্রাধিকার পায়, তা নিয়ে আগ্রহ থাকবে গোটা অঞ্চলের।BRICS Summit: দিল্লিতে ব্রিকসের মহা আয়োজন! আসছেন পুতিন-জিনপিং, প্রস্তুতির  ঝলক সামনে আনলেন মোদী

গালওয়ান পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠন

২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘদিন হিমশীতল অবস্থায় ছিল, সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছিল। শি জিনপিংয়ের এবারের সফরকে তাই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান না হলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রতি দুই পক্ষেরই আগ্রহ স্পষ্ট।

জ্বালানি ও বাণিজ্য কূটনীতি

মোদি-পুতিন বৈঠকে জ্বালানি বাণিজ্য বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কারণ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কেও উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর প্রস্তাব আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পেজেশকিয়ানের সফরের প্রেক্ষাপট

আট বছর পর ইরানি প্রেসিডেন্টের এই ভারত সফর পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে হরমুজ ও বাব এল মান্দেব প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা চলমান রয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দরসহ একাধিক কৌশলগত প্রকল্পে জড়িত থাকায় এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।