১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাপে ভারতে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনে গণভোট, আগে সংসদের অনুমোদন: রানা সানাউল্লাহ উপকূলীয় শহরে গ্রিজলির হানা, স্কুলে আশ্রয় নির্দেশ; ‘সহাবস্থান’ নাকি সরিয়ে নেওয়া—দ্বিধায় বাসিন্দারা মূল্যস্ফীতি ৩.৪%-এ অনড়, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেই কি ইরান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন ঘাঁটিতে? শান্তির দূত হতে চায় ব্রিকস, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে শির সঙ্গে মোদির বৈঠক পদ্মার পানি বাড়ছে, দৌলতপুরে ৩৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রাজধানীর আদাবরে ১০ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় মেলেনি

হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, পুনর্গঠনে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন নেপালের

চীন-নেপাল সীমান্তে পাহাড়ি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে চার দশমিক সাত আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী এই হিসাব প্রকাশ করেন।

গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে একটি পাহাড়ি হিমবাহ ধসে পড়লে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢল নেমে আসে। এতে দুই দেশেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।

হতাহতের চিত্র

নেপালে এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ সাতষট্টি জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচ হাজার একশ বত্রিশ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের অংশে তেতাল্লিশ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচশত ঊনিশ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার চারশ দশ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছয়শ একান্ন জনের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

চলছে উদ্ধার অভিযান

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, ত্রিশুলি থ্রি এ, থ্রি বি এবং চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও চলমান আবহাওয়াজনিত জটিলতার কারণে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।নেপালে হিমবাহ ধসে বিধ্বস্ত ২০ হাজার ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ সরকারের -  DesheBideshe

দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হিমবাহ গলন হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। নেপালের মতো পার্বত্য দেশগুলোর জন্য এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের এই পুনর্গঠন ব্যয় নেপালের অর্থনীতির জন্য বিশাল চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু-সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।

ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

ত্রিশুলি থ্রি এ, থ্রি বি এবং চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো বহু শ্রমিক আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে বিদেশি কর্মীও রয়েছেন। এসব জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এগুলোর ক্ষতি দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রশ্ন

চীন ও নেপাল উভয় দেশই এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যে ত্রাণ তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্গঠনের বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা নিয়ে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সতর্কবার্তা

হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য দেশগুলোর জন্য এক নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশগুলোর জন্যও এ ধরনের দুর্যোগের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে, কারণ উজানের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও পলি বহনের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিশাল বাজারকে এক কণ্ঠে কথা বলাতে বেইজিংয়ের নতুন কৌশল

হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, পুনর্গঠনে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন নেপালের

০৬:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীন-নেপাল সীমান্তে পাহাড়ি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে চার দশমিক সাত আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী এই হিসাব প্রকাশ করেন।

গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে একটি পাহাড়ি হিমবাহ ধসে পড়লে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢল নেমে আসে। এতে দুই দেশেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।

হতাহতের চিত্র

নেপালে এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ সাতষট্টি জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচ হাজার একশ বত্রিশ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের অংশে তেতাল্লিশ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচশত ঊনিশ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার চারশ দশ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছয়শ একান্ন জনের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

চলছে উদ্ধার অভিযান

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, ত্রিশুলি থ্রি এ, থ্রি বি এবং চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও চলমান আবহাওয়াজনিত জটিলতার কারণে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।নেপালে হিমবাহ ধসে বিধ্বস্ত ২০ হাজার ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ সরকারের -  DesheBideshe

দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হিমবাহ গলন হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। নেপালের মতো পার্বত্য দেশগুলোর জন্য এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের এই পুনর্গঠন ব্যয় নেপালের অর্থনীতির জন্য বিশাল চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু-সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।

ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

ত্রিশুলি থ্রি এ, থ্রি বি এবং চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো বহু শ্রমিক আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে বিদেশি কর্মীও রয়েছেন। এসব জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এগুলোর ক্ষতি দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রশ্ন

চীন ও নেপাল উভয় দেশই এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যে ত্রাণ তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্গঠনের বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা নিয়ে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সতর্কবার্তা

হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য দেশগুলোর জন্য এক নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশগুলোর জন্যও এ ধরনের দুর্যোগের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে, কারণ উজানের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও পলি বহনের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।