চীন-নেপাল সীমান্তে পাহাড়ি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে চার দশমিক সাত আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী এই হিসাব প্রকাশ করেন।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে একটি পাহাড়ি হিমবাহ ধসে পড়লে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢল নেমে আসে। এতে দুই দেশেই ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
হতাহতের চিত্র
নেপালে এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ সাতষট্টি জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচ হাজার একশ বত্রিশ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের অংশে তেতাল্লিশ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচশত ঊনিশ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার চারশ দশ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছয়শ একান্ন জনের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
চলছে উদ্ধার অভিযান
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, ত্রিশু
দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হিমবাহ গলন হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। নেপালের মতো পার্বত্য দেশগুলোর জন্য এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়া
ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
ত্রিশুলি থ্রি এ, থ্রি বি এবং চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগু
আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রশ্ন
চীন ও নেপাল উভয় দেশই এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যে ত্রাণ তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্গঠনের বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা নিয়ে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সতর্কবার্তা
হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য দেশগুলোর জন্য এক নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশগুলোর জন্যও এ ধরনের দুর্যোগের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে, কারণ উজানের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও পলি বহনের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















