০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫০)

  • নাঈম হক
  • ০৫:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • 205

প্রমোদ-ভ্রমণের জাহাজ এবং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনের কারণে বাধ্যতামূলকভাবে (সমর দপ্তর) সান্তা-পাউলাকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

পরদিন সকালে ডেকে গিয়ে ইতো দেখে যে সান্তা-পাউলা আসলে। জাহাজের বিশাল কনভয়ের একটি অংশ- সেনা জাহাজ, সাপ্লাই জাহাজ ও যুদ্ধ জাহাজ কনভয়কে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সকালের নাস্তার জন্য মধ্যাহ্ন পান্তি অপেক্ষা করে ইভো, অতঃপর, জাহাজের প্রথম খাদ্য খাওয়ার জন্য লম্বা টেবিল ফেলা “ডাইনিং রুমে” প্রবেশ করে, অশান্ত সমুদ্রের মধ্য দিয়ে জাহাজ দুলে দুলে চলেছে, দোলানির সঙ্গে তাল রেখে খাদ্য ও থালাবাটি যাতে মেঝেতে পড়ে না যায়, তাই টেবিলের কিনারাগুলো এক কি দুই ইঞ্চি পরিমাণ উঁচু করা ফ্রেমের মতো।

জাহাজে যে খাদ্য পরিবেশিত হতো সেগুলো মোটেই খাওয়া যেত না, একেবারেই অখাদ্য খাদ্য দেয়া হতো খেতে; ঘুরে ফিরে প্রতিদিন সেই শক্ত করে সিদ্ধ করা ডিম, মাছ এবং দুধ অথবা জলে ফোটানো জইয়ের মন্ড। ইতো-র দিব্যি মনে আছে যে এমনকি কফির স্বাদও এমন জঘন্য ছিল যে গলাধঃকরণ করতে খুব কষ্ট হতো।
সান্তা-গাউলা ছিল প্রমোদ-তরি, প্রমোদ-ভ্রমণের জাহাজ এবং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনের কারণে বাধ্যতামূলকভাবে (সমর দপ্তর) সান্তা-পাউলাকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এই জাহাজটিতে ছিল আশিজন নাবিক এবং অনায়াসে পাঁচশজন পর্যটক আরাম করে ঘুমোতে পারত। অবশ্য যুদ্ধকালীন সময়ে আরাম নয় কতো অধিক সংখ্যক সেনা বহণ করা যায় নীতি প্রাধান্য পায়।

সান্ডা-পাউলা প্রমোদতরি রূপান্তরিত হয় মার্কিন সেনা বহনকারী জাহাজে এবং ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ব্রিটিশ ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে মার্কিন সেনা বহনকারীর ডিউটি পালন করে। ছবিতে। ১৯৩২ সালে প্রমোদতরি সান্তা-পাউলা পানামা খালের লেইক গেটান-য়ে। সৌজন্যে উইকিপিডিয়া। পাবলিক ডমেইন, ইউএস সরকার।

যাহোক, সান্তা-পাউলা’র প্রথম যাত্রাবিরতি হয় বেরমুডা’র হ্যামিল্টনে, কিন্তু কোনো যাত্রীকেই জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়া হয়নি। জাহাজটি এখান থেকে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ধরে ধরে চলে আসে অতঃপর আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে এবং লাইবেরিয়ার ফ্রিপোর্ট বন্দরে নোঙর করে।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪৯)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪৯)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫০)

০৫:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

প্রমোদ-ভ্রমণের জাহাজ এবং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনের কারণে বাধ্যতামূলকভাবে (সমর দপ্তর) সান্তা-পাউলাকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

পরদিন সকালে ডেকে গিয়ে ইতো দেখে যে সান্তা-পাউলা আসলে। জাহাজের বিশাল কনভয়ের একটি অংশ- সেনা জাহাজ, সাপ্লাই জাহাজ ও যুদ্ধ জাহাজ কনভয়কে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সকালের নাস্তার জন্য মধ্যাহ্ন পান্তি অপেক্ষা করে ইভো, অতঃপর, জাহাজের প্রথম খাদ্য খাওয়ার জন্য লম্বা টেবিল ফেলা “ডাইনিং রুমে” প্রবেশ করে, অশান্ত সমুদ্রের মধ্য দিয়ে জাহাজ দুলে দুলে চলেছে, দোলানির সঙ্গে তাল রেখে খাদ্য ও থালাবাটি যাতে মেঝেতে পড়ে না যায়, তাই টেবিলের কিনারাগুলো এক কি দুই ইঞ্চি পরিমাণ উঁচু করা ফ্রেমের মতো।

জাহাজে যে খাদ্য পরিবেশিত হতো সেগুলো মোটেই খাওয়া যেত না, একেবারেই অখাদ্য খাদ্য দেয়া হতো খেতে; ঘুরে ফিরে প্রতিদিন সেই শক্ত করে সিদ্ধ করা ডিম, মাছ এবং দুধ অথবা জলে ফোটানো জইয়ের মন্ড। ইতো-র দিব্যি মনে আছে যে এমনকি কফির স্বাদও এমন জঘন্য ছিল যে গলাধঃকরণ করতে খুব কষ্ট হতো।
সান্তা-গাউলা ছিল প্রমোদ-তরি, প্রমোদ-ভ্রমণের জাহাজ এবং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনের কারণে বাধ্যতামূলকভাবে (সমর দপ্তর) সান্তা-পাউলাকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এই জাহাজটিতে ছিল আশিজন নাবিক এবং অনায়াসে পাঁচশজন পর্যটক আরাম করে ঘুমোতে পারত। অবশ্য যুদ্ধকালীন সময়ে আরাম নয় কতো অধিক সংখ্যক সেনা বহণ করা যায় নীতি প্রাধান্য পায়।

সান্ডা-পাউলা প্রমোদতরি রূপান্তরিত হয় মার্কিন সেনা বহনকারী জাহাজে এবং ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ব্রিটিশ ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে মার্কিন সেনা বহনকারীর ডিউটি পালন করে। ছবিতে। ১৯৩২ সালে প্রমোদতরি সান্তা-পাউলা পানামা খালের লেইক গেটান-য়ে। সৌজন্যে উইকিপিডিয়া। পাবলিক ডমেইন, ইউএস সরকার।

যাহোক, সান্তা-পাউলা’র প্রথম যাত্রাবিরতি হয় বেরমুডা’র হ্যামিল্টনে, কিন্তু কোনো যাত্রীকেই জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়া হয়নি। জাহাজটি এখান থেকে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ধরে ধরে চলে আসে অতঃপর আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে এবং লাইবেরিয়ার ফ্রিপোর্ট বন্দরে নোঙর করে।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪৯)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪৯)