১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজের গতি বাড়ছে, কিন্তু কমছে না চাপ—তরুণ কর্মীদের নতুন বাস্তবতা আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৫)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • 124

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীল প্রস্তুতকরণ রিপোর্ট

নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাননীয় মন্ত্রীর সমীপে

নীল ভারতে প্রস্তুত হলেও এ অঞ্চলে নীলের তেমন একটা কদর ছিল না। ১৭৯০ সালের আগে তো নয়ই। নীলের চাহিদার দিকে নজর রেখেই প্রস্তুত করা হত নীল। সে আমলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করা হত শুধুমাত্র দুই আমেরিকাতে। শতাব্দীকাল পূর্বে ফরাসীরা নীল চাষের প্রবর্তন করে সেন্ট ডোমিঙ্গোতে। ফরাসীদের হাতে ওই সব দেশে নীল তাদের প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়। সেন্ট ডোমিঙ্গোতে তখন বছরে নীল উৎপাদন হত দশ লাখ পাউন্ড। ফ্রান্সের মোট নীলের চাহিদার চেয়ে এ উৎপাদন বেশি। তাই অতিরিক্ত নীল বিক্রী করা হত ইংরাজদের কাছে। ইংরাজরা তখন জ্যামেইকার নীল উৎপাদনের চেষ্টা করছিল ঠিকই কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

সেন্ট ডোমিঙ্গোতে বিপ্লবের পর সেখানে নীল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপে নীলের চাহিদা ছিল এতই ব্যাপক যে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ করেও শুধু বৃটেনের চাহিদাই মিটানো যেত না। শিল্প প্রধান দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড নীলের চাহিদা উপলব্ধি করত প্রচন্ডভাবে।

নীলের অভাবে ইংল্যাণ্ডের শিল্প কি প্রচন্ড সংকটে পড়তে পারে এ কথা চিন্তা করে তারা ভারতে নীলচাষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করল। ভারতে নীলচাষে আগ্রহী এমন লোকদের মোটা অঙ্কের ঋণ ও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হল। দরখাস্ত কারীদের প্রথম সারিতে ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গো থেকে আসা ফরাসী নাগরিকবৃন্দ। তাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় যে মনে হয় নীল চাষের জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক জায়গা জগতে আর মিলবে না।

বৃটিশ সরকারের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার আধিক্যে ঈপ্সিত ফল পাওয়া গেলঃ অনুকূল জলবায়ু নদীমাতৃক দেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার ফলে উর্বরা জমি, ঘন জনবসতি ও প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম ভারবাহী পশু। তাদের আশা পূরণ হল। ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় রঞ্জকের পরিবর্তে তারা এমন নীল ব্যবহার করতে লাগল যা একান্তভাবে তাদের উপনিবেশেই তৈরি।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজের গতি বাড়ছে, কিন্তু কমছে না চাপ—তরুণ কর্মীদের নতুন বাস্তবতা

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৫)

১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীল প্রস্তুতকরণ রিপোর্ট

নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাননীয় মন্ত্রীর সমীপে

নীল ভারতে প্রস্তুত হলেও এ অঞ্চলে নীলের তেমন একটা কদর ছিল না। ১৭৯০ সালের আগে তো নয়ই। নীলের চাহিদার দিকে নজর রেখেই প্রস্তুত করা হত নীল। সে আমলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করা হত শুধুমাত্র দুই আমেরিকাতে। শতাব্দীকাল পূর্বে ফরাসীরা নীল চাষের প্রবর্তন করে সেন্ট ডোমিঙ্গোতে। ফরাসীদের হাতে ওই সব দেশে নীল তাদের প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়। সেন্ট ডোমিঙ্গোতে তখন বছরে নীল উৎপাদন হত দশ লাখ পাউন্ড। ফ্রান্সের মোট নীলের চাহিদার চেয়ে এ উৎপাদন বেশি। তাই অতিরিক্ত নীল বিক্রী করা হত ইংরাজদের কাছে। ইংরাজরা তখন জ্যামেইকার নীল উৎপাদনের চেষ্টা করছিল ঠিকই কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

সেন্ট ডোমিঙ্গোতে বিপ্লবের পর সেখানে নীল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপে নীলের চাহিদা ছিল এতই ব্যাপক যে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ করেও শুধু বৃটেনের চাহিদাই মিটানো যেত না। শিল্প প্রধান দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড নীলের চাহিদা উপলব্ধি করত প্রচন্ডভাবে।

নীলের অভাবে ইংল্যাণ্ডের শিল্প কি প্রচন্ড সংকটে পড়তে পারে এ কথা চিন্তা করে তারা ভারতে নীলচাষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করল। ভারতে নীলচাষে আগ্রহী এমন লোকদের মোটা অঙ্কের ঋণ ও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হল। দরখাস্ত কারীদের প্রথম সারিতে ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গো থেকে আসা ফরাসী নাগরিকবৃন্দ। তাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় যে মনে হয় নীল চাষের জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক জায়গা জগতে আর মিলবে না।

বৃটিশ সরকারের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার আধিক্যে ঈপ্সিত ফল পাওয়া গেলঃ অনুকূল জলবায়ু নদীমাতৃক দেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার ফলে উর্বরা জমি, ঘন জনবসতি ও প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম ভারবাহী পশু। তাদের আশা পূরণ হল। ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় রঞ্জকের পরিবর্তে তারা এমন নীল ব্যবহার করতে লাগল যা একান্তভাবে তাদের উপনিবেশেই তৈরি।