০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১২৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫
  • 233

প্রদীপ কুমার মজুমদার

পাঁচ শত খ্রীষ্টপূর্বে ‘লেখবার জয় ফলক’ কথাটি বিভিন্ন ভারতীয় সাহিত্যে উল্লেখিত হতে দেখা যায়। অন্ততপক্ষে বৌদ্ধ শাস্ত্র বিনয়পিটক, জাতক, ললিতবিস্তার প্রভৃতি গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদগণ জ্যোতিবিজ্ঞানের নানা দুরূহ সমস্তা অঙ্কনের সাহায্যে সমাধানের জন্য ফলকের উপর গুলো ছড়িয়ে দিয়ে আঁক জোক করতেন।

তাছাড়াও আমরা জানি যে ছাত্রদের শিক্ষার জয় ফলকের (board) উপর ধূলো ছড়িয়ে আদুলের অগ্রভাগ দিয়ে সংখ্যা এবং তৎসংক্রান্ত নানা সমস্তার সমাধান করা হোত। কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে যে, হয়তো তখনকার দিনে কাগজের দুষ্প্রাপ্যতা ছিল বলেই এই পদ্ধতির প্রচলন ছিল। ভারতীয় গণিত-শাস্ত্রে অব্য কেউ কেউ যেমন ব্রহ্মগুপ্ত, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্য প্রমুখেরা এই পদ্ধতিকে ধূলিকর্মা বলেছেন।

ব্রহ্মগুপ্ত ব্রাহ্মস্ফুট সিদ্ধান্তের দশম অধ্যায়ের ৬২ তম শ্লোকে বলেছেন।
“নাবার্থে। জ্ঞাতৈরপি তন্দ্রৈরার্যভট বিষ্ণুচন্দাদৈঃ।
যো ব্রাহ্ম ধূলিকর্ম বিদাচার্যবং ভবন্তি তক্ষ।

অর্থাৎ মমার্থ হচ্ছে-যে পণ্ডিত আর্যভট, বিষ্ণুচন্দ্র প্রভৃতির গণনাশিক্ষা করেছেন প্রসগুলি অপেক্ষা যিনি ব্রহ্মগুপ্ত লিখিত ধূলিকর্মা পাঠ করবেন তিনি অধিক জানবেন।

ব্রহ্মগুপ্ত ধূলিকর্মাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি বলে মনে করতেন এবং সেইহেতু
ব্রাহ্মস্ফুট সিদ্ধান্তের দশম অধ্যায়ে ৬৭-তম শ্লোকে বলেছেন:
গুরুণা ন ধূলিকর্ম প্রতিক ককারিণে প্রদাতব্যম্।
তত্ত্বা স্বকৃত প্রণাশঃ কুরুতে প্রতিকছু কং যংস্থা।

মমার্থ হচ্ছে-যিনি ধূলিকর্মা পদ্ধতি প্রয়োগ করেন না তিনি নিন্দার যোগ্য এবং তাঁর যশ অবলুপ্ত হতে পারে।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১২২)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১২২)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১২৩)

০৩:৪২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

প্রদীপ কুমার মজুমদার

পাঁচ শত খ্রীষ্টপূর্বে ‘লেখবার জয় ফলক’ কথাটি বিভিন্ন ভারতীয় সাহিত্যে উল্লেখিত হতে দেখা যায়। অন্ততপক্ষে বৌদ্ধ শাস্ত্র বিনয়পিটক, জাতক, ললিতবিস্তার প্রভৃতি গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদগণ জ্যোতিবিজ্ঞানের নানা দুরূহ সমস্তা অঙ্কনের সাহায্যে সমাধানের জন্য ফলকের উপর গুলো ছড়িয়ে দিয়ে আঁক জোক করতেন।

তাছাড়াও আমরা জানি যে ছাত্রদের শিক্ষার জয় ফলকের (board) উপর ধূলো ছড়িয়ে আদুলের অগ্রভাগ দিয়ে সংখ্যা এবং তৎসংক্রান্ত নানা সমস্তার সমাধান করা হোত। কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে যে, হয়তো তখনকার দিনে কাগজের দুষ্প্রাপ্যতা ছিল বলেই এই পদ্ধতির প্রচলন ছিল। ভারতীয় গণিত-শাস্ত্রে অব্য কেউ কেউ যেমন ব্রহ্মগুপ্ত, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্য প্রমুখেরা এই পদ্ধতিকে ধূলিকর্মা বলেছেন।

ব্রহ্মগুপ্ত ব্রাহ্মস্ফুট সিদ্ধান্তের দশম অধ্যায়ের ৬২ তম শ্লোকে বলেছেন।
“নাবার্থে। জ্ঞাতৈরপি তন্দ্রৈরার্যভট বিষ্ণুচন্দাদৈঃ।
যো ব্রাহ্ম ধূলিকর্ম বিদাচার্যবং ভবন্তি তক্ষ।

অর্থাৎ মমার্থ হচ্ছে-যে পণ্ডিত আর্যভট, বিষ্ণুচন্দ্র প্রভৃতির গণনাশিক্ষা করেছেন প্রসগুলি অপেক্ষা যিনি ব্রহ্মগুপ্ত লিখিত ধূলিকর্মা পাঠ করবেন তিনি অধিক জানবেন।

ব্রহ্মগুপ্ত ধূলিকর্মাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি বলে মনে করতেন এবং সেইহেতু
ব্রাহ্মস্ফুট সিদ্ধান্তের দশম অধ্যায়ে ৬৭-তম শ্লোকে বলেছেন:
গুরুণা ন ধূলিকর্ম প্রতিক ককারিণে প্রদাতব্যম্।
তত্ত্বা স্বকৃত প্রণাশঃ কুরুতে প্রতিকছু কং যংস্থা।

মমার্থ হচ্ছে-যিনি ধূলিকর্মা পদ্ধতি প্রয়োগ করেন না তিনি নিন্দার যোগ্য এবং তাঁর যশ অবলুপ্ত হতে পারে।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১২২)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১২২)