০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪
  • 209

  শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

মুর্শিদকুলী জাফর খাঁ মুর্শিদাবাদে বাঙ্গলার রাজধানী স্থাপন করেন, এবং তাঁহারই নামানুসারে ইহার নাম মুর্শিদাবাদ হয়। পূব্বে ইহাকে। মুখসুসাবাদ বা মুখসুদাবাদ বলিত। মুখসুদাবাদ একটি সামান্য নগর। মাত্র ছিল; মুর্শিদকুলী খাঁ ইহাতে রাজধানীর ও রাজকার্য্যের উপযোগী অট্টালিকাদি নির্মাণ করেন। ক্রমশঃ কেল্লা, দরবারগৃহ এবং অন্ত্যান্ত গৃহাদি নিৰ্ম্মিত হয়। সমস্তই এক্ষণে লোপ পাইয়াছে; কেবল তাঁহার নির্ম্মিত এক বিরাট্ মসজেদ অদ্যাপি তাঁহার নাম প্রচার করিতেছে। মসজেদটি ধ্বংস– মুখে পতিত; দুই চারি বৎসর মধ্যে তাহাও লয় প্রাপ্ত হইয়া মুর্শিদাবাদের।

” সহিত মুর্শিদকুলীর নামের সম্বন্ধ ঘুচাইয়া দিবে। বিশেষতঃ গত ভূমি- কম্পে তাহা ভূমিসাৎ হইবার উপক্রম করিয়াছে। যদি কেহ দুর্শিদাবাদ স্থাপয়িতার শেষগৌরবচিহ্ন দেখিতে চাহেন, তাহা হইলে ধ্বংসমুখে পতিত সেই বিরাট্ মসজেদ একবার নয়ন ভরিয়া দেখিয়া আসিবেন। দেখিবেন যে, বিধ্বস্ত প্রায় সেই ভগ্নস্তূপ আজিও মুর্শিদাবাদের মধ্যে সর্ব্ব- শ্রেষ্ঠ দর্শনীয় পদার্থ। কিন্তু কাল বোধ হয়, অধিক দিন কুলী খাঁর : কীর্ত্তিস্তম্ভকে ধরণীবক্ষে অবস্থান করিতে দিবে না।

মুর্শিদাবাদের প্রায় অর্দ্ধ ক্রোশ পূর্ব্বে এই বৃহৎ মজেদ অবস্থিত। যে স্থানে মজেদ নির্ম্মিত হয়, তাহাকে কাটরা কহে। কাটরা শব্দে গঞ্জ- বা বাজার বুঝায়। কাটরা মজেদনির্মাণ সম্বন্ধে প্রচলিত ইতিহাসে যেরূপ বর্ণনা দেখা যায়, আমরা প্রথমতঃ তাহারই উল্লেখ করিতেছি। মুর্শিদকুলী জাফর খাঁর বার্দ্ধক্য উপস্থিত হওয়ায় এবং শীঘ্র শীঘ্র স্বাস্থ্যভঙ্গ হইতেছে জানিয়া, তিনি সমাধিমন্দির নির্মাণের আদেশ দেন। তথায় একটি মজ্জদ ও কাটরা বা গঞ্জ স্থাপিত করিবার কথাও থাকে। উক্ত কাটরা হইতে এক্ষণে স্থানটির নাম কাটরা হইয়াছে। মোরাদ ফরাস নামে একজন সামার অথচ বিশ্বস্ত কর্মচারী সেই কার্য্যের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হয়। নগরের পূর্ব্বদিকে খাস তালুকের অন্তর্গত একটি স্থান সেই জন্ড নিদ্দিষ্ট হইলে, মোরাদ নিকটবর্তী হিন্দুমন্দির সকল ভূমিসাৎ করিয়া তাহার উপকরণ দ্বারা উক্ত কার্য্য আরম্ভ করে। জমীদার ও অনন্তান্ত হিন্দুগণ যথেচ্ছ পরিমিত অর্থ প্রদান করিয়া আপনাদিগের মন্দির রক্ষা করিতে পারিতেন, কিন্তু কোন প্রকার অনুনয় বা উৎকোচ কার্যকর হয় নাই। মুর্শিদাবাদ হইতে তিন চারি দিনের পথে কোথাও একটিমাত্র মন্দির অবস্থিতি করিতে পারে নাই! দূরবর্তী গ্রামসমূহের ধর্মার্থ উৎসগীকৃত হিন্দুমন্দির সকল ভাঙ্গিবার প্রস্তাব হইলে, সেই সেই স্থানের অধিবাসিগণ অর্থ দিয়া সে সকল মন্দির রক্ষা করিতে সমর্থ হয়। হিন্দু- দিগের ভৃত্যবর্গকে সমাধি নির্মাণকার্য্যে নিযুক্ত করা হইত। যাহাদিগের প্রভুরা অর্থ প্রদান করিতেন, তাহারা নিষ্কৃতি পাইত। সকলকে মোরাদ -ফরাসের আজ্ঞা প্রতিপালন করিতে হইত। এইরূপে এক বৎসরের মধ্যে সমাধিমন্দির নির্মিত হয়। কাটরা বা একটি গঞ্জ স্থাপন করিয়া তাহার আর সমাধিসংস্কারের জন্য নির্দেশ করা হইয়াছিল।

ভগ্ন মন্দিরের উপকরণ লইয়া কাটরা মন্ত্রীদনির্মাণসম্বন্ধে প্রচলিত ইতিহাসের মতে অনেকে সন্দিহান হইয়া থাকেন। একেবারে মিথ্যা না হইলেও ইহার অধিকাংশ অতিরঞ্জিত বলিয়াই বোধ হয়।

 

 

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩)

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪)

১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

  শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

মুর্শিদকুলী জাফর খাঁ মুর্শিদাবাদে বাঙ্গলার রাজধানী স্থাপন করেন, এবং তাঁহারই নামানুসারে ইহার নাম মুর্শিদাবাদ হয়। পূব্বে ইহাকে। মুখসুসাবাদ বা মুখসুদাবাদ বলিত। মুখসুদাবাদ একটি সামান্য নগর। মাত্র ছিল; মুর্শিদকুলী খাঁ ইহাতে রাজধানীর ও রাজকার্য্যের উপযোগী অট্টালিকাদি নির্মাণ করেন। ক্রমশঃ কেল্লা, দরবারগৃহ এবং অন্ত্যান্ত গৃহাদি নিৰ্ম্মিত হয়। সমস্তই এক্ষণে লোপ পাইয়াছে; কেবল তাঁহার নির্ম্মিত এক বিরাট্ মসজেদ অদ্যাপি তাঁহার নাম প্রচার করিতেছে। মসজেদটি ধ্বংস– মুখে পতিত; দুই চারি বৎসর মধ্যে তাহাও লয় প্রাপ্ত হইয়া মুর্শিদাবাদের।

” সহিত মুর্শিদকুলীর নামের সম্বন্ধ ঘুচাইয়া দিবে। বিশেষতঃ গত ভূমি- কম্পে তাহা ভূমিসাৎ হইবার উপক্রম করিয়াছে। যদি কেহ দুর্শিদাবাদ স্থাপয়িতার শেষগৌরবচিহ্ন দেখিতে চাহেন, তাহা হইলে ধ্বংসমুখে পতিত সেই বিরাট্ মসজেদ একবার নয়ন ভরিয়া দেখিয়া আসিবেন। দেখিবেন যে, বিধ্বস্ত প্রায় সেই ভগ্নস্তূপ আজিও মুর্শিদাবাদের মধ্যে সর্ব্ব- শ্রেষ্ঠ দর্শনীয় পদার্থ। কিন্তু কাল বোধ হয়, অধিক দিন কুলী খাঁর : কীর্ত্তিস্তম্ভকে ধরণীবক্ষে অবস্থান করিতে দিবে না।

মুর্শিদাবাদের প্রায় অর্দ্ধ ক্রোশ পূর্ব্বে এই বৃহৎ মজেদ অবস্থিত। যে স্থানে মজেদ নির্ম্মিত হয়, তাহাকে কাটরা কহে। কাটরা শব্দে গঞ্জ- বা বাজার বুঝায়। কাটরা মজেদনির্মাণ সম্বন্ধে প্রচলিত ইতিহাসে যেরূপ বর্ণনা দেখা যায়, আমরা প্রথমতঃ তাহারই উল্লেখ করিতেছি। মুর্শিদকুলী জাফর খাঁর বার্দ্ধক্য উপস্থিত হওয়ায় এবং শীঘ্র শীঘ্র স্বাস্থ্যভঙ্গ হইতেছে জানিয়া, তিনি সমাধিমন্দির নির্মাণের আদেশ দেন। তথায় একটি মজ্জদ ও কাটরা বা গঞ্জ স্থাপিত করিবার কথাও থাকে। উক্ত কাটরা হইতে এক্ষণে স্থানটির নাম কাটরা হইয়াছে। মোরাদ ফরাস নামে একজন সামার অথচ বিশ্বস্ত কর্মচারী সেই কার্য্যের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হয়। নগরের পূর্ব্বদিকে খাস তালুকের অন্তর্গত একটি স্থান সেই জন্ড নিদ্দিষ্ট হইলে, মোরাদ নিকটবর্তী হিন্দুমন্দির সকল ভূমিসাৎ করিয়া তাহার উপকরণ দ্বারা উক্ত কার্য্য আরম্ভ করে। জমীদার ও অনন্তান্ত হিন্দুগণ যথেচ্ছ পরিমিত অর্থ প্রদান করিয়া আপনাদিগের মন্দির রক্ষা করিতে পারিতেন, কিন্তু কোন প্রকার অনুনয় বা উৎকোচ কার্যকর হয় নাই। মুর্শিদাবাদ হইতে তিন চারি দিনের পথে কোথাও একটিমাত্র মন্দির অবস্থিতি করিতে পারে নাই! দূরবর্তী গ্রামসমূহের ধর্মার্থ উৎসগীকৃত হিন্দুমন্দির সকল ভাঙ্গিবার প্রস্তাব হইলে, সেই সেই স্থানের অধিবাসিগণ অর্থ দিয়া সে সকল মন্দির রক্ষা করিতে সমর্থ হয়। হিন্দু- দিগের ভৃত্যবর্গকে সমাধি নির্মাণকার্য্যে নিযুক্ত করা হইত। যাহাদিগের প্রভুরা অর্থ প্রদান করিতেন, তাহারা নিষ্কৃতি পাইত। সকলকে মোরাদ -ফরাসের আজ্ঞা প্রতিপালন করিতে হইত। এইরূপে এক বৎসরের মধ্যে সমাধিমন্দির নির্মিত হয়। কাটরা বা একটি গঞ্জ স্থাপন করিয়া তাহার আর সমাধিসংস্কারের জন্য নির্দেশ করা হইয়াছিল।

ভগ্ন মন্দিরের উপকরণ লইয়া কাটরা মন্ত্রীদনির্মাণসম্বন্ধে প্রচলিত ইতিহাসের মতে অনেকে সন্দিহান হইয়া থাকেন। একেবারে মিথ্যা না হইলেও ইহার অধিকাংশ অতিরঞ্জিত বলিয়াই বোধ হয়।

 

 

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩)