ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব উঠে এসেছে। শনিবার নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভারত-চীন সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যেই মোদি ও শির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে দুই নেতা মতপার্থক্যকে বিরোধে পরিণত না করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
সীমান্তে শান্তি সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি
বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়টি যে গুরুত্বপূর্ণ, বৈঠকের আলোচনায় সেটিই বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠক হিসেবে মোদি ও শির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতার সাক্ষাতের সময় তারা করমর্দন করেন।
ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের মধ্যেই এই বৈঠকটি হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য যেন দ্বন্দ্ব বা বিরোধের দিকে না যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্পর্ক উন্নয়নে সীমান্ত ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলেই আলোচনায় উঠে এসেছে।
ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির মধ্যেই মোদি-শি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভারত-চীন সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিরোধে রূপ না নেয়—বৈঠকে দুই নেতার আলোচনায় এই বার্তাই বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















