১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজের গতি বাড়ছে, কিন্তু কমছে না চাপ—তরুণ কর্মীদের নতুন বাস্তবতা আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের

সিঙ্গাপুরে নতুন স্পেস ল্যাব, মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ ব্যবসায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ

সিঙ্গাপুরে চালু হয়েছে নতুন একটি স্পেস ল্যাব, যার লক্ষ্য স্থানীয় মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অন্যান্য শিল্পখাতের সংযোগ তৈরি করা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু স্যাটেলাইট বা গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাংকিং, বীমা, পরিবেশ, জ্বালানি ও ডেটা সেন্টারের মতো খাতে ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এক-নর্থ এলাকায় প্রযুক্তি ইনকিউবেটর আইএমডিএ পিক্সেলে গড়ে তোলা প্রায় এক হাজার বর্গফুটের এই ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে ১৪ মে। এটি পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুর স্পেস অ্যান্ড টেকনোলজি থিংক ট্যাঙ্ক।

মহাকাশ প্রযুক্তিকে ব্যবসায়িক সমাধানে রূপান্তর

ল্যাবটির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝানো যে মহাকাশ প্রযুক্তি কীভাবে তাদের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদ্যোক্তারা এখানে এসে স্থানীয় স্পেস-টেক স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন এবং নিজেদের খাতের জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে নিতে পারবেন।

SST Think Tank launches Singapore Space Lab at IMDA PIXEL - SPACE & DEFENSE

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যদি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঋণ দিতে চায়, তাহলে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবতা যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে আলাদা বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রয়োজন কমে যাবে।

স্টার্টআপদের জন্য নতুন সুযোগ

ল্যাবটিতে স্থানীয় কয়েকটি স্টার্টআপের প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জিরো-এরর সিস্টেমস, যারা স্যাটেলাইটের তথ্যকে মহাকাশের তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি তৈরি করেছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান কুমি অ্যানালিটিক্স স্যাটেলাইট ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অবৈধ বন উজাড় শনাক্ত ও ম্যানগ্রোভের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতি কয়েক মাস পরপর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এখানে নিজেদের প্রযুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাবে। বিনিয়োগকারী, বিদেশি প্রতিনিধি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থাও থাকবে।

It will soon be possible to send a satellite to repair another

বীমা ও ডেটা সেন্টারেও মহাকাশ প্রযুক্তি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার এখন শুধু স্যাটেলাইট নির্মাণে সীমাবদ্ধ নেই। বীমা খাতে দাবির ঝুঁকি মূল্যায়নেও স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দাবানল বা ফসল ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে বীমা পরিশোধের সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, জিরো-এরর সিস্টেমস জানিয়েছে তাদের প্রযুক্তি ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ অপচয়ও কমাতে পারে। তাদের বিশেষ চিপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় তাপের কারণে শক্তি অপচয় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

সিঙ্গাপুরের মহাকাশ অর্থনীতির সম্প্রসারণ

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় ৭০টি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে কাজ করছেন প্রায় দুই হাজার পেশাজীবী। এসব প্রতিষ্ঠান ছোট স্যাটেলাইট তৈরি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রপথ বিশ্লেষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জাতীয় মহাকাশ সংস্থাও গঠন করেছে, যার লক্ষ্য স্থানীয় মহাকাশ অর্থনীতি আরও বিস্তৃত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সক্ষমতা বাড়ানো। নতুন স্পেস ল্যাবকে সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজের গতি বাড়ছে, কিন্তু কমছে না চাপ—তরুণ কর্মীদের নতুন বাস্তবতা

সিঙ্গাপুরে নতুন স্পেস ল্যাব, মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ ব্যবসায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ

০৫:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিঙ্গাপুরে চালু হয়েছে নতুন একটি স্পেস ল্যাব, যার লক্ষ্য স্থানীয় মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অন্যান্য শিল্পখাতের সংযোগ তৈরি করা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু স্যাটেলাইট বা গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাংকিং, বীমা, পরিবেশ, জ্বালানি ও ডেটা সেন্টারের মতো খাতে ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এক-নর্থ এলাকায় প্রযুক্তি ইনকিউবেটর আইএমডিএ পিক্সেলে গড়ে তোলা প্রায় এক হাজার বর্গফুটের এই ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে ১৪ মে। এটি পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুর স্পেস অ্যান্ড টেকনোলজি থিংক ট্যাঙ্ক।

মহাকাশ প্রযুক্তিকে ব্যবসায়িক সমাধানে রূপান্তর

ল্যাবটির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝানো যে মহাকাশ প্রযুক্তি কীভাবে তাদের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদ্যোক্তারা এখানে এসে স্থানীয় স্পেস-টেক স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন এবং নিজেদের খাতের জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে নিতে পারবেন।

SST Think Tank launches Singapore Space Lab at IMDA PIXEL - SPACE & DEFENSE

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যদি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঋণ দিতে চায়, তাহলে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবতা যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে আলাদা বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রয়োজন কমে যাবে।

স্টার্টআপদের জন্য নতুন সুযোগ

ল্যাবটিতে স্থানীয় কয়েকটি স্টার্টআপের প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জিরো-এরর সিস্টেমস, যারা স্যাটেলাইটের তথ্যকে মহাকাশের তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি তৈরি করেছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান কুমি অ্যানালিটিক্স স্যাটেলাইট ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অবৈধ বন উজাড় শনাক্ত ও ম্যানগ্রোভের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতি কয়েক মাস পরপর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এখানে নিজেদের প্রযুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাবে। বিনিয়োগকারী, বিদেশি প্রতিনিধি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থাও থাকবে।

It will soon be possible to send a satellite to repair another

বীমা ও ডেটা সেন্টারেও মহাকাশ প্রযুক্তি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার এখন শুধু স্যাটেলাইট নির্মাণে সীমাবদ্ধ নেই। বীমা খাতে দাবির ঝুঁকি মূল্যায়নেও স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দাবানল বা ফসল ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করে বীমা পরিশোধের সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, জিরো-এরর সিস্টেমস জানিয়েছে তাদের প্রযুক্তি ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ অপচয়ও কমাতে পারে। তাদের বিশেষ চিপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় তাপের কারণে শক্তি অপচয় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

সিঙ্গাপুরের মহাকাশ অর্থনীতির সম্প্রসারণ

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় ৭০টি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে কাজ করছেন প্রায় দুই হাজার পেশাজীবী। এসব প্রতিষ্ঠান ছোট স্যাটেলাইট তৈরি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রপথ বিশ্লেষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জাতীয় মহাকাশ সংস্থাও গঠন করেছে, যার লক্ষ্য স্থানীয় মহাকাশ অর্থনীতি আরও বিস্তৃত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সক্ষমতা বাড়ানো। নতুন স্পেস ল্যাবকে সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।