০৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের বদলে ইউরোপেই তৈরি হবে ডাসিয়া স্প্রিং, ফিরছে জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন পুরো আপিল বিভাগ ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, তারপর অলৌকিক উদ্ধার—নেপালের বন্যায় দুই শ্রমিকের বেঁচে থাকার গল্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম ইস্যু, বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি ৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের ডনবাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা, ইউক্রেনের নতুন সামরিক নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা কারাগারে বসেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন, এবার বার পরীক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন উত্তেজনা, থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি করতে হলে আমেরিকাতেই উৎপাদন করতে হবে বোম্বার্ডিয়ারকে

হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা

ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধান শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পরিবর্তে একটি ‘স্বৈরাচারী শক্তির’ সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক পরিণতি ভারতকেই বহন করতে হবে।

ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান

গাজী আতাউর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বন্ধ করতে ভারতের ওপর সরকারের ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ‘মিথ্যা প্রচার’ ছড়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষ এবং দলটির কথিত ‘আওয়ামী নিপীড়ন’ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচার জোরদার করা প্রয়োজন।

হাসিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার পথ খোলা থাকলে তিনি বারবার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ পাবেন।

তার ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশে কথিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের’ সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ধীর করা হলে দেশে কথিত ফ্যাসিবাদের শিকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমের গতি ধরে রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি হওয়ার সুযোগ না থাকে।

গাজী আতাউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নীতি শুধু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের স্বার্থের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের আশ্রয়ে শেখ হাসিনা—এই নীতিই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বদলে ইউরোপেই তৈরি হবে ডাসিয়া স্প্রিং, ফিরছে জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি

হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা

০৮:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধান শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পরিবর্তে একটি ‘স্বৈরাচারী শক্তির’ সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক পরিণতি ভারতকেই বহন করতে হবে।

ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান

গাজী আতাউর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বন্ধ করতে ভারতের ওপর সরকারের ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ‘মিথ্যা প্রচার’ ছড়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষ এবং দলটির কথিত ‘আওয়ামী নিপীড়ন’ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচার জোরদার করা প্রয়োজন।

হাসিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার পথ খোলা থাকলে তিনি বারবার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ পাবেন।

তার ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশে কথিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের’ সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ধীর করা হলে দেশে কথিত ফ্যাসিবাদের শিকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমের গতি ধরে রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি হওয়ার সুযোগ না থাকে।

গাজী আতাউর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নীতি শুধু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের স্বার্থের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের আশ্রয়ে শেখ হাসিনা—এই নীতিই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।