জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম নামের সাত বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিধুলী ইউনিয়নের চরলোটাবর এলাকায় একটি বসতঘরের মেঝের মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরিয়ম চরলোটাবর এলাকার বাহাদুরের মেয়ে। সে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ
পুলিশ ও মরিয়মের বাবা বাহাদুরের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় মরিয়ম। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শিশুটিকে খুঁজে পেতে পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মরিয়মের নিখোঁজের খবর জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এভাবে তিন দিন ধরে তার সন্ধান চালানোর পর শনিবার রাতে তার অবস্থানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
ঘরের মেঝের নিচে মিলল মরদেহ
শনিবার রাতে বিদ্যালয়ের পাশের জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটি খুঁড়ে মরিয়মের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজন আটক
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ওই বাড়ির মালিক জামিনুর ও তার স্ত্রী সবুজা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের পর শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
মরিয়মের নিখোঁজ হওয়ার পর তিন দিন ধরে পরিবারের খোঁজাখুঁজি, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর বিদ্যালয়ের পাশের একটি ঘরের মেঝের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















