বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান সোমবার বলেছেন, নতুন সরকারের প্রতি এমনকি বিভিন্ন দেশও গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে উচ্চ স্তরের আস্থা দেখাচ্ছে।
পারস্পরিক সম্মান ও সমান মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা চাই প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদা এবং পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক স্থাপন করতে। আমাদের সকল বিষয়ই সম্মানজনকভাবে এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সমাধান হবে।” তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্ব এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার নীতি তুলে ধরেছেন। “আমাদের নীতি হবে পারস্পরিক স্বার্থ এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে।”
ড. রহমান আরও উল্লেখ করেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা আগামী দিনে একটি অত্যন্ত গতিশীল কূটনৈতিক নীতি পরিচালনা করতে সক্ষম হব।” তিনি জানান, এপর্যন্ত তারা ঢাকায় অবস্থানরত দূতাদের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিশেষ বিষয়
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা এবং সীমান্ত হত্যাকাণ্ড রোধে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ মুহূর্তে কোনো বিশেষ প্রশ্ন নেওয়া হচ্ছে না এবং নির্দিষ্ট বিষয়গুলো পরে আলোচনা করা হবে, যা কিছুটা সময় নেবে।
প্রধান দূতদের সঙ্গে বৈঠক
ড. রহমান জানান, সৌদি আরব, ভারত, চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর দূতরা, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা রবিবার ও সোমবার তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সময় নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, “রবিবার থেকে আমরা দূতদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছি। আমরা আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আমাদের মূলমন্ত্র হল ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ সর্বোপরি থাকবে।”
পারিপার্শ্বিক দেশ ও বিশ্ব সঙ্গে সম্পর্ক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, তারা পারিপার্শ্বিক দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হবেন। এছাড়াও তিনি বুধবার বলেন, তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতিতে ফিরে যেতে চান, যা খুবই ইতিবাচক ও বিস্তৃত ছিল। সরকার চাই প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে, একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে।
সাংবাদিকদের প্রতি বার্তা
ড. রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বৈদেশিক নীতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” তিনি সংবাদ মাধ্যমে বৈদেশিক বিষয় রিপোর্টিংয়ে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। অবিবেচক বা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে, তাই সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ থাকার এবং গুজব এড়ানোর নির্দেশ দেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















