বাংলাদেশ পুলিশের বিদ্যমান পোশাক পরিবর্তনের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে এবং যথাযথ গবেষণা ছাড়াই নতুন পোশাক নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ তৈরি করছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পেশাদার সদস্যদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

বিদ্যমান পোশাক নির্ধারণের প্রেক্ষাপট
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩-০৪ সালে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও গবেষণার মাধ্যমে বর্তমান পুলিশ পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ এবং পুলিশ সদস্যদের গায়ের রঙ বিবেচনায় রেখে পোশাকটি চূড়ান্ত করা হয়। ফলে বর্তমান ইউনিফর্ম বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করে সংগঠনটি।
নতুন পোশাক নিয়ে শঙ্কা
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া নতুন পোশাক নির্বাচনের উদ্যোগে পেশাদারদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে নতুন ইউনিফর্ম অন্য কোনো বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে যেতে পারে। এমন হলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
সংগঠনটি মনে করে, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিপুল অর্থ নতুন পোশাকে ব্যয় না করে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সহায়তা জোরদারে ব্যয় করা বেশি যৌক্তিক হবে।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















