ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি-সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে দুর্বল করছে এবং জনমনে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি করছে।
নিয়োগ নিয়ে তীব্র আপত্তি
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানান। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরওয়ারের ভাষ্য, এই পদক্ষেপ জনগণের প্রত্যাশার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। তার মতে, এ ধরনের নিয়োগ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য প্রসঙ্গ
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা। তার দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ছিল সেই লক্ষ্য পূরণের প্রাথমিক ধাপ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমেই গঠিত হবে।
নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের আশঙ্কা
জামায়াত নেতা বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও একই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠদের প্রশাসক হিসেবে বসানো নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তার অভিযোগ, এতে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ কি না—এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ বাড়তে পারে এবং আরেকটি ‘প্রকৌশলী নির্বাচন’-এর শঙ্কা জোরদার হতে পারে।
অবিলম্বে সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগ বাতিল এবং সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলছে, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















