জামাতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মির আহমদ বিন কাসেম আরমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান হ. মনসুরের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকারের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী নগাদে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ।
নাগাদ পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা
সাক্ষাতের পেছনে মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পর নাগাদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন। গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছিল যে, ডাক বিভাগের অধীনে থাকা নাগাদকে ব্যক্তিগত খাতে স্থানান্তর করা হবে।
সাক্ষাতের পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাংবাদিকদের জানান, ডাক বিভাগ এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সক্ষম নয় এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। তিনি আরও বলেন, নাগাদকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী অংশীদার প্রয়োজন, যা বি-কার্যের (bKash) মডেলের মতো হবে।
ভবিষ্যতের বিনিয়োগকারীরা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা
গভর্নর মনসুর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধুমাত্র বিশ্বাসযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরাফেরা করা একটি চিঠিতে কোনো স্বীকৃত বিনিয়োগকারীর উল্লেখ নেই এবং এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আরমান, যিনি প্রয়াত মির কাসেম আলীর ছেলে, জানান যে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি দলের স্থানীয় আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি যোগ করেন, প্রাথমিক যোগাযোগ চলছে এবং বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসার পর আনুষ্ঠানিক আলোচনাসূচনা করা হবে। তবে বিদেশি ফার্মগুলোর নাম এবং উৎস প্রকাশ করা হয়নি।
নাগাদের ইতিহাস ও আর্থিক ত্রুটি
২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা নাগাদ পরবর্তীতে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স পায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এটি নানা scrutiny বা তদারকির মুখোমুখি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিটে দেখা গেছে ট্রাস্ট স্যাটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে ১০১ কোটি টাকার ঘাটতি এবং ই-মানি অ্যাকাউন্টে ৬৪৫ কোটি টাকার ফাঁক রয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২৪ জনের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা দায়ের করে, যার মধ্যে প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ. মিশুকও রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















