০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
ধনীদের ব্যঙ্গ এখন বাস্তবেই: টিভি সিরিজকে হার মানাচ্ছে রিয়েলিটি শো ডেমোক্র্যাট দলে ভেতরের ঝড়, পেলোসির বিদায়ের আগে নতুন লড়াইয়ের সূচনা চীনের প্রভাব বাড়ছে ইন্টারপোলে, হংকং সভা ঘিরে বিতর্ক ও উদ্বেগ ট্রাম্পের প্রশংসা-রাজনীতি: ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে ঘিরে কূটনৈতিক বার্তা ও ইরান ইস্যুর টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে চাপে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, কৌশলগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন উত্তাপ: ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের কৌশল, ন্যাটোতে ফাটল স্পষ্ট ট্রাম্পের নতুন পছন্দ: শতকোটি সম্পদের মালিক কি হচ্ছেন ফেড প্রধান? চীনকে বুঝতে ব্যর্থতার শঙ্কা, বিশেষজ্ঞ সংকটে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র জিন্স, মিম আর শেয়ারবাজার: ভাইরাল প্রচারণায় দুলছে বিনিয়োগের হিসাব বিশ্বজুড়ে পাঁচ গল্প: টরটিলা থেকে এভারেস্ট—স্বাস্থ্য, রাজনীতি আর ভূরাজনীতির নতুন হিসাব

সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তা হবে ভয়াবহ ফাঁদ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রস্তুতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—স্পষ্ট কৌশল ছাড়া যুদ্ধ শুরু করলে তার পরিণতি কী হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ফাঁকা হুমকি যেমন বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি লক্ষ্যহীন সামরিক পদক্ষেপও দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ওবামার ‘রেড লাইন’ থেকে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান

তেরো বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ার শাসককে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রমের পরও কার্যকর প্রতিক্রিয়া না আসায় তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সিরিয়ার শাসক বহু বছর ক্ষমতায় টিকে থাকেন, আর লাখো মানুষ প্রাণ হারায়।

বর্তমানে একই অঞ্চলে আরেকটি কঠোর শাসনের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র। জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের কথা বলেন এবং শাসনব্যবস্থা উৎখাতের অঙ্গীকার করেন। সাম্প্রতিক ভাষণেও তিনি ইরানের ‘অশুভ’ পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত হতে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রশ্ন উঠছে, এতে কি তিনি নিজেই একটি নতুন ‘রেড লাইন’ টেনে দিলেন?

ট্রাম্পের এলোমেলো বক্তৃতায় উদ্বিগ্ন মিত্ররা

কথার বাইরে সামরিক প্রস্তুতি

ট্রাম্প কেবল বক্তব্যেই থেমে থাকেননি। ইরানের উপকূলের দিকে তিনি একটি বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছেন। ২০০৩ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও অন্যান্য বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। মিত্র দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় সহায়তা দেওয়া এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের হিসাব-নিকাশ

তবে ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ ছাড়া সমাধান চাইতে পারেন। কিন্তু ইরানের শাসকরাও নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করছেন। তারা পারমাণবিক আলোচনায় সময়ক্ষেপণ করতে পারে, অথবা চুক্তি করেও বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাতে পারে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হয়তো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে ঐক্যবদ্ধ বলেই মনে হচ্ছে, এবং কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তা ভেঙে পড়বে—এমন ধারণায় অনেকেই আস্থা রাখেন না।

ইরান হয়তো মনে করছে, সংঘাত থেকে টিকে বেরোতে পারলেই তারা আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।

লক্ষ্যহীন যুদ্ধের ঝুঁকি

স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া হামলা শুরু করা এমন এক ভুল, যাকে ট্রাম্প অতীতে সমালোচনা করেছেন। ছোট ও স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ অনেক সময় বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়। ইরানের হাতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। যদি কোনো হামলায় বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। চীন বা রাশিয়া এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে জড়িয়ে পড়াকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখবে।

সুস্পষ্ট যুদ্ধলক্ষ্য ঘোষণা করে জনসমর্থন ও কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া এক পথ হতে পারে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে থেকে আলোচনার পথ খোলা রাখা—যদিও তা আপাতদৃষ্টিতে পিছিয়ে আসার মতো মনে হয়—সম্ভবত বেশি বিচক্ষণতা।

ব্যক্তিগত বিনিয়োগের নতুন ঝুঁকি ও সুযোগ

এদিকে আর্থিক খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এসেছে। বেসরকারি বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে অনেকেই বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বের অধিকাংশ সম্পদ তালিকাভুক্ত নয়, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে বিপুল পুঁজির প্রয়োজন। এই খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে বেসরকারি সম্পদ সাধারণত অতি তরল নয়, অর্থাৎ সহজে কেনাবেচা করা যায় না। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সতর্ক। কিছু তহবিল সীমিত তারল্যের মডেল চালু করেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ তুলতে পারেন, কিন্তু মোট সম্পদের একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি নয়।

A world on edge as Trump bombs Iran and triggers war in the Middle East.  There was no need for this | Simon Tisdall | The Guardian

কিন্তু একটি তহবিল সেই সীমা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নাকি মডেলের মৌলিক ত্রুটি—এখনও স্পষ্ট নয়। যেসব পেনশন তহবিল ও বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল বেসরকারি সম্পদে বড় বিনিয়োগ করেছে, তাদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগজনক।

নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বের ভারসাম্য

অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া তহবিল কখনোই ঝুঁকিমুক্ত নয়। ঋণখেলাপি, খালি পড়ে থাকা সম্পত্তি বা ব্যর্থ কোম্পানির ঝুঁকি সবসময় থাকে। উপরন্তু, অতি তরল নয় এমন সম্পদে বিনিয়োগ করে একই সঙ্গে সহজে অর্থ তোলার প্রতিশ্রুতি দিলে তা বিপদের কারণ হতে পারে।

বিনিয়োগকারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বচ্ছতা নেই এমন ব্যবস্থাপকের কাছে অর্থ দেওয়া উচিত নয়। ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অযৌক্তিক প্রত্যাশা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সবশেষে, ইরান প্রশ্নে যেমন লক্ষ্যহীন পদক্ষেপ বিপজ্জনক, তেমনি আর্থিক বাজারেও অস্পষ্টতা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। বিচক্ষণতা, স্বচ্ছতা ও সুস্পষ্ট কৌশল—দুই ক্ষেত্রেই এখন সবচেয়ে জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধনীদের ব্যঙ্গ এখন বাস্তবেই: টিভি সিরিজকে হার মানাচ্ছে রিয়েলিটি শো

সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তা হবে ভয়াবহ ফাঁদ

০৫:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রস্তুতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—স্পষ্ট কৌশল ছাড়া যুদ্ধ শুরু করলে তার পরিণতি কী হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ফাঁকা হুমকি যেমন বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি লক্ষ্যহীন সামরিক পদক্ষেপও দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ওবামার ‘রেড লাইন’ থেকে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান

তেরো বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ার শাসককে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রমের পরও কার্যকর প্রতিক্রিয়া না আসায় তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সিরিয়ার শাসক বহু বছর ক্ষমতায় টিকে থাকেন, আর লাখো মানুষ প্রাণ হারায়।

বর্তমানে একই অঞ্চলে আরেকটি কঠোর শাসনের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র। জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের কথা বলেন এবং শাসনব্যবস্থা উৎখাতের অঙ্গীকার করেন। সাম্প্রতিক ভাষণেও তিনি ইরানের ‘অশুভ’ পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত হতে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রশ্ন উঠছে, এতে কি তিনি নিজেই একটি নতুন ‘রেড লাইন’ টেনে দিলেন?

ট্রাম্পের এলোমেলো বক্তৃতায় উদ্বিগ্ন মিত্ররা

কথার বাইরে সামরিক প্রস্তুতি

ট্রাম্প কেবল বক্তব্যেই থেমে থাকেননি। ইরানের উপকূলের দিকে তিনি একটি বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছেন। ২০০৩ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও অন্যান্য বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। মিত্র দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় সহায়তা দেওয়া এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের হিসাব-নিকাশ

তবে ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ ছাড়া সমাধান চাইতে পারেন। কিন্তু ইরানের শাসকরাও নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করছেন। তারা পারমাণবিক আলোচনায় সময়ক্ষেপণ করতে পারে, অথবা চুক্তি করেও বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাতে পারে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হয়তো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে ঐক্যবদ্ধ বলেই মনে হচ্ছে, এবং কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তা ভেঙে পড়বে—এমন ধারণায় অনেকেই আস্থা রাখেন না।

ইরান হয়তো মনে করছে, সংঘাত থেকে টিকে বেরোতে পারলেই তারা আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।

লক্ষ্যহীন যুদ্ধের ঝুঁকি

স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া হামলা শুরু করা এমন এক ভুল, যাকে ট্রাম্প অতীতে সমালোচনা করেছেন। ছোট ও স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ অনেক সময় বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়। ইরানের হাতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। যদি কোনো হামলায় বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। চীন বা রাশিয়া এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে জড়িয়ে পড়াকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখবে।

সুস্পষ্ট যুদ্ধলক্ষ্য ঘোষণা করে জনসমর্থন ও কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া এক পথ হতে পারে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে থেকে আলোচনার পথ খোলা রাখা—যদিও তা আপাতদৃষ্টিতে পিছিয়ে আসার মতো মনে হয়—সম্ভবত বেশি বিচক্ষণতা।

ব্যক্তিগত বিনিয়োগের নতুন ঝুঁকি ও সুযোগ

এদিকে আর্থিক খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এসেছে। বেসরকারি বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে অনেকেই বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বের অধিকাংশ সম্পদ তালিকাভুক্ত নয়, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে বিপুল পুঁজির প্রয়োজন। এই খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে বেসরকারি সম্পদ সাধারণত অতি তরল নয়, অর্থাৎ সহজে কেনাবেচা করা যায় না। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সতর্ক। কিছু তহবিল সীমিত তারল্যের মডেল চালু করেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ তুলতে পারেন, কিন্তু মোট সম্পদের একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি নয়।

A world on edge as Trump bombs Iran and triggers war in the Middle East.  There was no need for this | Simon Tisdall | The Guardian

কিন্তু একটি তহবিল সেই সীমা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নাকি মডেলের মৌলিক ত্রুটি—এখনও স্পষ্ট নয়। যেসব পেনশন তহবিল ও বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল বেসরকারি সম্পদে বড় বিনিয়োগ করেছে, তাদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগজনক।

নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বের ভারসাম্য

অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া তহবিল কখনোই ঝুঁকিমুক্ত নয়। ঋণখেলাপি, খালি পড়ে থাকা সম্পত্তি বা ব্যর্থ কোম্পানির ঝুঁকি সবসময় থাকে। উপরন্তু, অতি তরল নয় এমন সম্পদে বিনিয়োগ করে একই সঙ্গে সহজে অর্থ তোলার প্রতিশ্রুতি দিলে তা বিপদের কারণ হতে পারে।

বিনিয়োগকারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বচ্ছতা নেই এমন ব্যবস্থাপকের কাছে অর্থ দেওয়া উচিত নয়। ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অযৌক্তিক প্রত্যাশা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সবশেষে, ইরান প্রশ্নে যেমন লক্ষ্যহীন পদক্ষেপ বিপজ্জনক, তেমনি আর্থিক বাজারেও অস্পষ্টতা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। বিচক্ষণতা, স্বচ্ছতা ও সুস্পষ্ট কৌশল—দুই ক্ষেত্রেই এখন সবচেয়ে জরুরি।