মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর তেহরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে খামেনেই নিহত হওয়ার পরই প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় ইরান। তার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
খামেনেই নিহত, প্রথমবার মার্কিন সেনা নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এটিই এই অভিযানে প্রথম মার্কিন প্রাণহানি। আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। সামরিক অভিযান এখনও চলছে এবং প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই হামলায় ৪৮ জন ইরানি শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। তার ভাষায়, যুদ্ধের অগ্রগতি দ্রুত এবং প্রত্যাশার চেয়েও সফল।
![]()
ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ৯
রবিবার ইরান মধ্য ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে অন্তত ৯ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এখনো ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত আছে। ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, বহু আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
উপসাগরীয় শহরগুলোতেও বিস্ফোরণ
রিয়াদ, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামা, জেরুজালেম ও তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বড় আকারের আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান বলছে, এটি তাদের বৈধ প্রতিশোধ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান খামেনেইয়ের হত্যাকে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ন্যায়সঙ্গত অধিকার।

ইসরাইলের দাবি, এক মিনিটে ৪০ কমান্ডার নিহত
ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন, যৌথ অভিযানে এক মিনিটের মধ্যে ৪০ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে খামেনেইও ছিলেন। তিনি এটিকে বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বিভক্ত
আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। পোপ লিও চতুর্দশ উভয় পক্ষকে সহিংসতার চক্র থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীন এই হত্যাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে। ফ্রান্স খামেনেইয়ের মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে তাকে দমনমূলক শাসক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
তেহরানে শোক ও বিক্ষোভ

তেহরানে একদিকে শোক, অন্যদিকে বিক্ষোভ। কেউ কেউ দীর্ঘদিনের নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ উদযাপনও করেছেন। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারপন্থীরা রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।
পশ্চিম ইরানের মেহরান শহরে সীমান্ত রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে হামলায় ৪৩ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জড়িত।
মধ্যপ্রাচ্যে এখন পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে যুদ্ধ কতদূর গড়াবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















