ইরানের হামলায় কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করেছিল যে ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ভেদ করে একটি অস্ত্র ঢুকে পড়েছিল। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই ঘাঁটিতে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা বিমান প্রতিরোধ সক্ষমতা ছিল না।

হামলায় নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে ছয়
রবিবার ইরানের হামলায় কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরের একটি সামরিক স্থাপনায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। শুরুতে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, ওই হামলায় তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পরে মঙ্গলবার পেন্টাগনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ জানান, নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, কখনও কখনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে একটি অস্ত্র ঢুকে পড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, “কখনও কখনও এমন একটি অস্ত্র থাকে যাকে আমরা ‘স্কুইটার’ বলি, যা প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে যায়। ওই ক্ষেত্রে এটি একটি সুরক্ষিত ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে আঘাত হেনেছিল। অস্ত্রগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।”
অস্থায়ী অফিসেই ছিল অপারেশন সেন্টার
তবে ঘটনাটি সম্পর্কে সরাসরি জানেন এমন তিনজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, যেটিকে অপারেশন সেন্টার বলা হচ্ছে সেটি আসলে একটি অস্থায়ী অফিস ছিল। এটি ছিল তিনটি সংযুক্ত ট্রেইলার দিয়ে তৈরি একটি কাঠামো, যা বিদেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাধারণত ব্যবহৃত হয়।
তাদের দাবি, সেখানে প্রকৃত অর্থে কোনো শক্তিশালী স্থায়ী স্থাপনা ছিল না।
প্রতিরক্ষায় ছিল কেবল টি-ওয়াল
সামরিক সূত্রগুলো জানায়, ওই স্থানে নিরাপত্তা হিসেবে ছিল শুধু তথাকথিত ‘টি-ওয়াল’। এগুলো স্টিল-শক্তিশালীকৃত কংক্রিটের তৈরি দেয়াল, যার উচ্চতা প্রায় ৩.৬ মিটার বা ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত সামরিক ঘাঁটির চারপাশে সুরক্ষা দেয়াল হিসেবে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
এই দেয়ালগুলো ছোট অস্ত্রের গুলি, শেল বা রকেটের টুকরো থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। কিন্তু আকাশপথে আসা হামলা প্রতিরোধে এগুলো কার্যকর নয়।
কামিকাজে ড্রোনে সরাসরি আঘাত
ধারণা করা হচ্ছে, একটি কামিকাজে ড্রোন সরাসরি ওই অপারেশন সেন্টারে আঘাত হানে। এতে স্থাপনাটিতে বড় ধরনের আগুন লাগে। সূত্রগুলো আরও জানায়, বন্দরের ওই সামরিক স্থাপনায় ড্রোন বা অন্য আকাশপথের অস্ত্র প্রতিহত করার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
একজন সূত্র বলেন, “মূলত আমাদের ড্রোন প্রতিরোধের কোনো সক্ষমতাই ছিল না।”

সতর্কতা সাইরেন নিয়েও প্রশ্ন
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজন কর্মকর্তা আরও জানান, তারা এমন কোনো সতর্কতা সাইরেন শুনতে পাননি যা সাধারণত আসন্ন হামলা শনাক্ত করার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
তাদের দাবি, হামলার আগের কয়েক দিন সাইরেন একাধিকবার বেজেছিল। কিছু ক্ষেত্রে ড্রোন ঘাঁটির ভেতরে ঢুকে যাওয়ার পর সাইরেন বাজতে শুরু করেছিল।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















