যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজার এখন স্থবিরতায় প্রবেশ করছে এবং ইরান যুদ্ধ এই সংকটকে আরও গভীরভাবে প্রকাশ করছে। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে চাকরি বৃদ্ধির গতি কমছিল, তবে সামগ্রিক বেকারত্ব হার এখনও ঐতিহাসিকভাবে বেশ নিম্নস্তরে থাকলেও নতুন নিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি নীতিনির্ধাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আগেও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়নি, কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে এখন আর এ অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।
নিয়োগ বৃদ্ধি প্রায় নিঃশেষ
চাকরি খোলাবন্ধ ও শ্রম বাজারের মোড়ল অধ্যয়নের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়োগের হার এপ্রিলে ২০২০ সালের নিম্নস্তরের সমান হয়ে গেছে, এবং পরবর্তী মাসগুলোতে এটি বাড়ার সম্ভাবনা খুব কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী মার্চ মাসে মাত্র পেষায় ৬০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টির ওপর আশা করা হচ্ছে, যা দেশটির বৃহত্তম অর্থনৈতিক কাঠামোয় মোট নিয়োগের গড় বৃদ্ধিকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে দিয়েছে।
চাকরি বৃদ্ধির এই ধীরগতি আয় বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে এবং এর ফলে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহেও চাপ তৈরি হচ্ছে। আয় বৃদ্ধির গতি কম থাকা মানে মানুষের ব্যয় কম হবে, অর্থনৈতিক ক্রিয়া কমবেশি হবে এবং এরই প্রতিফল পড়বে সার্বিক জিডিপিতে।

বেকারত্ব স্থিতিশীল হলেও সতর্ক সংকেত
চাকরি বৃদ্ধির অভাবে বেকারত্ব বৃদ্ধির কথা স্বাভাবিকভাবেই মাথায় আসে, কিন্তু শ্রম সরবরাহের হ্রাসের কারণে বেকারত্বের হার আপাতভাবে স্থিতিশীল থাকে। দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের ফলে শ্রম সরবরাহ কমছে এবং তা সাময়িকভাবে এই সংকটকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে, কিন্তু মূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দুর্বল।
ইন্ধন মূল্য ও ব্যয়ের চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ঘরোয়া ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ইতিমধ্যেই তেলের দাম চারগুণে পৌঁছেছে এবং গ্যাসের মূল্যও বাড়ছে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের গৃহস্থালিতে পড়বে। এই অবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও উচ্চ খরচের মুখোমুখি হচ্ছে এবং নতুন নিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সুদের হার কাটার নীতিকে স্থগিত করেছে এবং আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিবর্তে ‘কম নিয়োগ, কম চাকরি বরখাস্ত’ অর্থনীতিকে সমর্থন করার আশা ব্যক্ত করেছে, কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এই ধারণা দুর্বল মনে হচ্ছে।
-69b8d0733c0ff.jpg)
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















