০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে ডিজেল সংকট, তাপপ্রবল তাপপ্রবাহ ও বোরো ধানের ভবিষ্যৎ চাঁদের চারপাশে মানুষের প্রথম যাত্রা: আর্টেমিস- ২এর নিরাপত্তার বহুস্তরীয় ব্যবস্থা ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ইন্টারনেট: টেলিগ্রাম বন্ধের চেষ্টা জ্বালিয়ে দিলো জনরোষ ইরান–আমেরিকা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান, কূটনীতি প্রশ্নবিদ্ধ থাইল্যান্ডে ৩০০ সচিব পাঠানোর খবর মিথ্যা — সরকার বলছে প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর BCS স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১ হাজার ৮২১ কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান, শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে ফ্রান্সে মুসলিমদের সমাবেশ নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত আইপিওতে নতুন খেলা: সূচক নীতিমালা বদলে ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগকারীরা ইরান যুদ্ধে কুয়েতে আটকা বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াল ঢাকা, মানবিক সহায়তার প্রস্তাব

তেলের দাম বাড়লে ভোটের ফল উল্টে যায়? যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের বছর ঘনিয়ে আসতেই তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভোটের রাজনীতিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পেট্রোলের দাম বাড়া মানেই ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় ঝুঁকি।

যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় বিশ্ব তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মাত্র এক সপ্তাহেই জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। হোয়াইট হাউস থেকে যুদ্ধের শেষ নিয়ে অস্পষ্ট বার্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের বড় একটি অংশ সরবরাহ হয়। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Timesofbangla.com | টাইমস অব বাংলা

 

নির্বাচনের আগে বিপাকে ক্ষমতাসীনরা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা দেখা যায়—তেলের দাম বাড়লে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে ক্ষতির মুখে পড়ে। গত কয়েক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি উচ্চ অবস্থানে থাকে, তখন কংগ্রেস নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল গড়ে উল্লেখযোগ্য আসন হারায়।

এবারও একই আশঙ্কা সামনে এসেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই ভোট শুরু হওয়ার কথা, আর এর মধ্যেই জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Crude Oil Prices Soar After Trump Warning | HPCL, BPCL, IOC Share Price  Update

অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলছে

ইতিহাস বলছে, তেলের দাম বাড়ার সময় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীনরা। পূর্বের কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, উচ্চ তেলের দামের সময় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বড় সংখ্যক আসন হারাতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলকে।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, যেমন বড় জাতীয় সংকট বা রাজনৈতিক সহানুভূতির পরিবেশে, ক্ষমতাসীন দল উল্টো লাভবানও হয়েছে। কিন্তু সেসব ঘটনা খুবই বিরল।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো ইরানের ভূমিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অসম যুদ্ধ কৌশল অনুসরণ করে আসছে এবং প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এমন হলে শুধু তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খাবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ফলে অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে ডিজেল সংকট, তাপপ্রবল তাপপ্রবাহ ও বোরো ধানের ভবিষ্যৎ

তেলের দাম বাড়লে ভোটের ফল উল্টে যায়? যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

০৩:২১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের বছর ঘনিয়ে আসতেই তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভোটের রাজনীতিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পেট্রোলের দাম বাড়া মানেই ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় ঝুঁকি।

যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় বিশ্ব তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মাত্র এক সপ্তাহেই জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। হোয়াইট হাউস থেকে যুদ্ধের শেষ নিয়ে অস্পষ্ট বার্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের বড় একটি অংশ সরবরাহ হয়। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Timesofbangla.com | টাইমস অব বাংলা

 

নির্বাচনের আগে বিপাকে ক্ষমতাসীনরা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা দেখা যায়—তেলের দাম বাড়লে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে ক্ষতির মুখে পড়ে। গত কয়েক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি উচ্চ অবস্থানে থাকে, তখন কংগ্রেস নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল গড়ে উল্লেখযোগ্য আসন হারায়।

এবারও একই আশঙ্কা সামনে এসেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই ভোট শুরু হওয়ার কথা, আর এর মধ্যেই জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Crude Oil Prices Soar After Trump Warning | HPCL, BPCL, IOC Share Price  Update

অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলছে

ইতিহাস বলছে, তেলের দাম বাড়ার সময় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীনরা। পূর্বের কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, উচ্চ তেলের দামের সময় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বড় সংখ্যক আসন হারাতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলকে।

তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, যেমন বড় জাতীয় সংকট বা রাজনৈতিক সহানুভূতির পরিবেশে, ক্ষমতাসীন দল উল্টো লাভবানও হয়েছে। কিন্তু সেসব ঘটনা খুবই বিরল।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো ইরানের ভূমিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অসম যুদ্ধ কৌশল অনুসরণ করে আসছে এবং প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এমন হলে শুধু তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খাবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ফলে অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।