০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
পোপ লিও চতুর্দশের আহ্বান: ইসরায়েলকে ইরানের সঙ্গে সংলাপে ফেরার আহ্বান, বেসামরিক সুরক্ষার দাবি তেহরানের এক বাসিন্দার জবানিতে ৩৫তম রাতের বিভীষিকা: মৃত্যু মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল ভাইভব সূর্যবংশী: ১৫ বছরেই আইপিএলের রোমাঞ্চকর নবতরকা ট্রাম্প বললেন হরমুজ খুলে তেল নেব, ম্যাক্রোঁ বললেন অবাস্তব, জাতিসংঘে ভোট আটকে দিল চীন-রাশিয়া রাশিয়ার তেল উৎপাদনে বড় ধস: ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাল রপ্তানি ইরান ‘আবুধাবিতে আমেরিকান ইস্পাত, বাহরাইনে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা এবং রাফায়েল অস্ত্র কারখানায়’ আঘাত হেনেছে বলে দাবি পশ্চিম এশিয়ার সংকটে ভারতীয় উৎপাদন: মার্চে চার বছরের ন্যূনতম স্থিতিতে ধস মার্কিন প্রাক্তন পাইলটের টিপস: বিমান গুঁড়িয়ে পড়লে কীভাবে বেঁচে থাকা যায় শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ক্যান্সার: ভারতের চিত্র উদ্বেগজনক ইউএই বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এপ্রিল ৪-এ ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে

ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ইন্টারনেট: টেলিগ্রাম বন্ধের চেষ্টা জ্বালিয়ে দিলো জনরোষ

রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের নতুন দৌড়ে টেলিগ্রামকে নিশানা করেছে ক্রেমলিন। দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দৈনন্দিন যোগাযোগ ও সংবাদপাঠে ব্যবহার করে এই জনপ্রিয় অ্যাপ। গত মাসে ক্রেমলিনের কাছাকাছি একটি শপিং সেন্টারে আগুন লাগলে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ, টেলিগ্রাম সীমিত। ওস্তোরোজনো নভোস্তি খ্যাত সাংবাদিক সার্গেই টিতভের মতে, “এ যেন ১৯৯৭ সালে ফিরে যাওয়া। রিপোর্টারকে ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করে পরিস্থিতি জানাতে হয়েছে।”

মোবাইল ইন্টারনেটের ব্ল্যাকআউট ও নিরাপত্তার অজুহাত

মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ অংশে দিনের পর দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। সরকার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঝুঁকি দেখিয়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের অজুহাত দিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অশান্তি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি। বিদেশি অ্যাপগুলোও ব্লক করা হচ্ছে।

Kremlin's drive for a state-backed messaging app touches a nerve for some |  Reuters

টেলিগ্রাম বনাম ক্রেমলিন

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্লক করার পর ক্রেমলিন এবার টেলিগ্রামের ওপর নজর দিয়েছে। টেলিগ্রামের মাধ্যমে সৈনিকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং জনগণ সরকারের সমালোচনা করতে পারে। টেলিগ্রামকে বন্ধ করলে স্বাধীন রুশ ইন্টারনেটের বড় অংশ নষ্ট হবে, বলছেন সাংবাদিকরা।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত

ইন্টারনেট ও অ্যাপ ব্লক হওয়ায় নগদে লেনদেন বাড়ছে, ট্যাক্সি অ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছে না, অনলাইন বিক্রিতে ওয়াকি-টকির চাহিদা বেড়েছে। শিশুদের গ্লুকোজ মিটার বা মেডিকেল ডিভাইসও সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। মানুষের মধ্যে রোষ প্রকাশও শুরু হয়েছে। বহু শহরে প্রতিবাদ আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও তা অবরুদ্ধ হচ্ছে।

Russia targets VPNs used by millions in Putin's latest internet crackdown |  The Independent

স্বাধীন ইন্টারনেটের ধ্বংস

দশক ধরে রাশিয়ায় তুলনামূলকভাবে মুক্ত ইন্টারনেট বিদ্যমান ছিল। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সহজে তথ্য আদান-প্রদান করত। ২০১১ ও ২০১২ সালের বিরোধী বিক্ষোভের পর ক্রেমলিন স্বাধীন ইন্টারনেটকে হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। পুতিনের “সর্বভৌম ইন্টারনেট” নির্মাণের উদ্যোগ সেই থেকেই।

টেলিগ্রামের প্রয়োজনীয়তা

রাশিয়ার সাধারণ মানুষ, এমনকি সেনারা, টেলিগ্রামকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে দেখে। ব্লক হওয়া শুরু হলে VPN ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। টেলিগ্রাম কেবল সামাজিক নেটওয়ার্ক নয়, এটি রাশিয়ার অবাধ ইন্টারনেট জীবনের মূল ভিত্তি।

Russia targets VPN as internet crackdown grows

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

টেলিগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তে বিরোধী রাজনীতিও সংক্ষিপ্তভাবে ফিরে এসেছে। কিছু প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, সেনারা রক্ত দিচ্ছেন কিন্তু পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। কিছু অঞ্চলে প্রতিবাদ অনুমোদন চাওয়া হলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাশিয়ার মানুষ ক্রেমলিনের এই কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের দিকে ঝুঁকছে, তাদের প্রতিরোধ সীমিত। সাংবাদিকরা মনে করছেন, সরকারী নিয়ন্ত্রণে অ্যাপ MAX-এ সংবাদ সম্প্রচার আগের মতো সফল হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোপ লিও চতুর্দশের আহ্বান: ইসরায়েলকে ইরানের সঙ্গে সংলাপে ফেরার আহ্বান, বেসামরিক সুরক্ষার দাবি

ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ইন্টারনেট: টেলিগ্রাম বন্ধের চেষ্টা জ্বালিয়ে দিলো জনরোষ

০৪:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের নতুন দৌড়ে টেলিগ্রামকে নিশানা করেছে ক্রেমলিন। দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দৈনন্দিন যোগাযোগ ও সংবাদপাঠে ব্যবহার করে এই জনপ্রিয় অ্যাপ। গত মাসে ক্রেমলিনের কাছাকাছি একটি শপিং সেন্টারে আগুন লাগলে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ, টেলিগ্রাম সীমিত। ওস্তোরোজনো নভোস্তি খ্যাত সাংবাদিক সার্গেই টিতভের মতে, “এ যেন ১৯৯৭ সালে ফিরে যাওয়া। রিপোর্টারকে ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করে পরিস্থিতি জানাতে হয়েছে।”

মোবাইল ইন্টারনেটের ব্ল্যাকআউট ও নিরাপত্তার অজুহাত

মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ অংশে দিনের পর দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। সরকার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঝুঁকি দেখিয়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের অজুহাত দিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অশান্তি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি। বিদেশি অ্যাপগুলোও ব্লক করা হচ্ছে।

Kremlin's drive for a state-backed messaging app touches a nerve for some |  Reuters

টেলিগ্রাম বনাম ক্রেমলিন

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্লক করার পর ক্রেমলিন এবার টেলিগ্রামের ওপর নজর দিয়েছে। টেলিগ্রামের মাধ্যমে সৈনিকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং জনগণ সরকারের সমালোচনা করতে পারে। টেলিগ্রামকে বন্ধ করলে স্বাধীন রুশ ইন্টারনেটের বড় অংশ নষ্ট হবে, বলছেন সাংবাদিকরা।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত

ইন্টারনেট ও অ্যাপ ব্লক হওয়ায় নগদে লেনদেন বাড়ছে, ট্যাক্সি অ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছে না, অনলাইন বিক্রিতে ওয়াকি-টকির চাহিদা বেড়েছে। শিশুদের গ্লুকোজ মিটার বা মেডিকেল ডিভাইসও সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। মানুষের মধ্যে রোষ প্রকাশও শুরু হয়েছে। বহু শহরে প্রতিবাদ আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও তা অবরুদ্ধ হচ্ছে।

Russia targets VPNs used by millions in Putin's latest internet crackdown |  The Independent

স্বাধীন ইন্টারনেটের ধ্বংস

দশক ধরে রাশিয়ায় তুলনামূলকভাবে মুক্ত ইন্টারনেট বিদ্যমান ছিল। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সহজে তথ্য আদান-প্রদান করত। ২০১১ ও ২০১২ সালের বিরোধী বিক্ষোভের পর ক্রেমলিন স্বাধীন ইন্টারনেটকে হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। পুতিনের “সর্বভৌম ইন্টারনেট” নির্মাণের উদ্যোগ সেই থেকেই।

টেলিগ্রামের প্রয়োজনীয়তা

রাশিয়ার সাধারণ মানুষ, এমনকি সেনারা, টেলিগ্রামকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে দেখে। ব্লক হওয়া শুরু হলে VPN ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। টেলিগ্রাম কেবল সামাজিক নেটওয়ার্ক নয়, এটি রাশিয়ার অবাধ ইন্টারনেট জীবনের মূল ভিত্তি।

Russia targets VPN as internet crackdown grows

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

টেলিগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তে বিরোধী রাজনীতিও সংক্ষিপ্তভাবে ফিরে এসেছে। কিছু প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, সেনারা রক্ত দিচ্ছেন কিন্তু পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। কিছু অঞ্চলে প্রতিবাদ অনুমোদন চাওয়া হলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাশিয়ার মানুষ ক্রেমলিনের এই কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের দিকে ঝুঁকছে, তাদের প্রতিরোধ সীমিত। সাংবাদিকরা মনে করছেন, সরকারী নিয়ন্ত্রণে অ্যাপ MAX-এ সংবাদ সম্প্রচার আগের মতো সফল হবে না।