রাশিয়ার তেল শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের লক্ষ্যভিত্তিক ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার বন্দর, পাইপলাইন এবং রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে রপ্তানি ক্ষমতা দিনে প্রায় এক মিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের প্রভাব রাশিয়ার তেল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ও রাশিয়ার ক্ষতি
গত এক মাসে ইউক্রেনের হামলা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে বল্টিক সমুদ্রের উস্তলুগা এবং প্রিমোর্স্ক বন্দরের ওপর নিয়মিত ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার মোট রপ্তানি ক্ষমতার অন্তত ২০ শতাংশ বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত, যা মার্চের তুলনায় কিছুটা কম, তবে এখনো যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন হ্রাসের প্রভাব ফেলছে।

তেল সংরক্ষণ ও উৎপাদন হ্রাসের চাপে রাশিয়া
উস্তলুগা বন্দরে ড্রোন হামলার পর তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রাশিয়ার পাইপলাইন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় তেলের ঘাটতি বা অতিপ্রবাহ এড়াতে কিছু তেলক্ষেত্রকে উৎপাদন কমাতে হবে। সাধারণত মার্চ ও এপ্রিল মাসে সিজনাল রিফাইনারি রক্ষণাবেক্ষণ চলে, কিন্তু এবার অতিরিক্ত তেল সংরক্ষণে চাপ আরও বেড়েছে।

তেলের বাজারে প্রভাব
যদিও ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর তেলের দাম বাড়ছে, তবু উৎপাদন হ্রাস রাশিয়ার আয়কে প্রভাবিত করবে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়ার রাজস্বের প্রায় এক চতুর্থাংশের উৎস। আরও জটিলতা যোগ করছে ড্রুজবা পাইপলাইনের স্থগিত অবস্থা, যা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার দিকে তেল সরবরাহ করত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সংকট শুধু রাশিয়ার জন্য নয়, কজাখস্তানসহ অন্যান্য দেশও প্রভাবিত হচ্ছে। কজাখস্তান মাসে প্রায় দুই লাখ থেকে চার লাখ মেট্রিক টন তেল উস্তলুগা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করে।
রাশিয়ার সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেনের হামলার মধ্যেও রাশিয়ার তেল উৎপাদন মাত্র ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এখনও বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের প্রায় দশ শতাংশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















