চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা একটি শক্তিশালী পরিসংখ্যান। গত পূর্ণ অর্থবছরে এই প্রবাহ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে অর্থনীতিবিদরা স্বল্পমেয়াদি এই উত্থানে আত্মতুষ্টিতে না ভোগার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চের রেমিট্যান্স প্রবাহ ঈদের আগে বর্ধিত অর্থ পাঠানোর কারণে ফুলে উঠেছিল। আসল পরীক্ষা আসবে আগামী মাসগুলোতে।
ইরান যুদ্ধের ছায়া উপসাগরীয় শ্রমবাজারে
ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পাঁচটি দেশ থেকেই বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫১ শতাংশ আসে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজার সংকুচিত হয়, তাহলে প্রবাসী কর্মীরা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হবেন। এই বিপরীত অভিবাসন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার ও অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
কোভিডের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির তুলনা টানছেন কোভিড-১৯ মহামারির সঙ্গে, যখন লক্ষাধিক প্রবাসী কর্মী হঠাৎ করে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। তখন রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধস নামে এবং বেকারত্বের চাপ বাড়ে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিজার্ভ সুরক্ষা, বিকল্প শ্রম বাজার অনুসন্ধান এবং দেশে ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















