০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন প্রাক্তন পাইলটের টিপস: বিমান গুঁড়িয়ে পড়লে কীভাবে বেঁচে থাকা যায় শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ক্যান্সার: ভারতের চিত্র উদ্বেগজনক ইউএই বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এপ্রিল ৪-এ ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে ব্রিটিশ রাজনীতিতে গ্রিন পার্টির উত্থান: জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্বে নতুন আশা ডিজেলের দাম বৃদ্ধি খাদ্য ও পণ্যের মূল্যে চাপ বৃদ্ধি করছে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তাণ্ডব: চাকরি কাটা ও নতুন ব্যবসার মডেল যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, ইরানে ১ হাজার ৯০০, লেবাননে ১ হাজার ৩০০ ঢাকায় যুবদল কর্মীর উপর বন্দুকধারীদের হামলা, আহত যুবক হাসপাতালে ভর্তি মার্ক কারনির রাজনীতির উজ্জ্বল বছর: লিবারালদের সংখ্যা বাড়ছে কানাডায় ঢাকায় ডিএনসিসির আবর্জনাবাহী ট্রাকে চাপায় একজন নিহত

ইরান–আমেরিকা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান, কূটনীতি প্রশ্নবিদ্ধ

ইউএস গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ইরান সরকার যুদ্ধ শেষ করতে সত্যিকারের কূটনীতি করতে রাজি নয় এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত বলে মনে করছে, এমন তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের কাছে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচনা আগ্রহ নৈতিক নয় বলে ধারণা পোষণ করে বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি দাবি নয় ইরানের পক্ষ থেকে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান সরকার যুদ্ধবিরতি চাওয়া হয়নি এবং মার্কিন দাবিকে “ভূল ও ভিত্তিহীন” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে বলা হয়েছিল ইরান যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছে, কিন্তু তেহরান সেই দাবিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছেন এবং গত এক বছরে দুইবার মধ্যবর্তী আলোচনার সময়ই আক্রমণ জোরদার করেছেন, যা ইরানের কূটনৈতিক আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে।

সম্ভাব্য সব উপকরণ ব্যবহার করে ইসরায়েলকে উচিত জবাব দেওয়া হবে: ইরান | The  Daily Star

যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ইরানের দৃঢ় মনোভাব
যুক্তরাষ্ট্রীয় কিছু গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান মজবুত অবস্থানে আছে এবং তাই তারা মার্কিন কূটনৈতিক দাবির অধীনে যেতে প্রস্তুত নয়। ইরান দুই শর্ত ছাড়াই যুদ্ধবিরতি চাইছে না; তারা চায় মার্কিন ইতিবাচক সহিংসতা স্থগিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে আগ্রহী তা প্রমাণ করুক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভাষণে বলেছেন, “যদি কোনো চুক্তি না হয়,” তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের শক্তির স্থাপনাগুলোতে আঘাত করবে, এমন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে ভাষণে যা বললেন ডোনাল্ড  ট্রাম্প - BBC News বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক বাঁধা ও বিভ্রান্তি
ইরানীয় শীর্ষস্থানীয়দের বক্তব্যে সরকারী কূটনীতির ভাষা কঠোর হলেও গোপন বার্তায় নরম সুর শোনা যায় বলে জানা গেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যবর্তী বার্তা বিনিময় চলছে, কিন্তু তা বন্ধুলতার চুক্তি বা যুদ্ধে আরোপিত শর্ত নিয়ে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের জটিলতার কারণে আলোচনায় কোনদিকে এগোবে তা স্পষ্ট নয়। ইরান তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বজায় রাখাকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।

বিশ্বব্যাপী বাজারে সংকট ও কূটনৈতিক চাপ
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমাবদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বহু দেশ তাদের তেল রেশনিং পরিকল্পনা করতে শুরু করেছে। পাকিস্তান ও চীন শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও ইরান এই প্রস্তাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানীয় নেতৃত্বের ভেতরে ঐকমত্য না থাকায় কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন, এবং তারা যুদ্ধের বদলে শান্তি সুবিধাজনক কি না তা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করছে।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা: হরমুজে ধীরে বাড়ছে জাহাজ চলাচল

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন প্রাক্তন পাইলটের টিপস: বিমান গুঁড়িয়ে পড়লে কীভাবে বেঁচে থাকা যায়

ইরান–আমেরিকা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান, কূটনীতি প্রশ্নবিদ্ধ

০৪:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউএস গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ইরান সরকার যুদ্ধ শেষ করতে সত্যিকারের কূটনীতি করতে রাজি নয় এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত বলে মনে করছে, এমন তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের কাছে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচনা আগ্রহ নৈতিক নয় বলে ধারণা পোষণ করে বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি দাবি নয় ইরানের পক্ষ থেকে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান সরকার যুদ্ধবিরতি চাওয়া হয়নি এবং মার্কিন দাবিকে “ভূল ও ভিত্তিহীন” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে বলা হয়েছিল ইরান যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছে, কিন্তু তেহরান সেই দাবিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছেন এবং গত এক বছরে দুইবার মধ্যবর্তী আলোচনার সময়ই আক্রমণ জোরদার করেছেন, যা ইরানের কূটনৈতিক আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে।

সম্ভাব্য সব উপকরণ ব্যবহার করে ইসরায়েলকে উচিত জবাব দেওয়া হবে: ইরান | The  Daily Star

যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ইরানের দৃঢ় মনোভাব
যুক্তরাষ্ট্রীয় কিছু গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান মজবুত অবস্থানে আছে এবং তাই তারা মার্কিন কূটনৈতিক দাবির অধীনে যেতে প্রস্তুত নয়। ইরান দুই শর্ত ছাড়াই যুদ্ধবিরতি চাইছে না; তারা চায় মার্কিন ইতিবাচক সহিংসতা স্থগিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে আগ্রহী তা প্রমাণ করুক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভাষণে বলেছেন, “যদি কোনো চুক্তি না হয়,” তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের শক্তির স্থাপনাগুলোতে আঘাত করবে, এমন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে ভাষণে যা বললেন ডোনাল্ড  ট্রাম্প - BBC News বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক বাঁধা ও বিভ্রান্তি
ইরানীয় শীর্ষস্থানীয়দের বক্তব্যে সরকারী কূটনীতির ভাষা কঠোর হলেও গোপন বার্তায় নরম সুর শোনা যায় বলে জানা গেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যবর্তী বার্তা বিনিময় চলছে, কিন্তু তা বন্ধুলতার চুক্তি বা যুদ্ধে আরোপিত শর্ত নিয়ে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের জটিলতার কারণে আলোচনায় কোনদিকে এগোবে তা স্পষ্ট নয়। ইরান তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বজায় রাখাকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।

বিশ্বব্যাপী বাজারে সংকট ও কূটনৈতিক চাপ
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমাবদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বহু দেশ তাদের তেল রেশনিং পরিকল্পনা করতে শুরু করেছে। পাকিস্তান ও চীন শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও ইরান এই প্রস্তাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানীয় নেতৃত্বের ভেতরে ঐকমত্য না থাকায় কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন, এবং তারা যুদ্ধের বদলে শান্তি সুবিধাজনক কি না তা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করছে।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা: হরমুজে ধীরে বাড়ছে জাহাজ চলাচল